প্রকাশিত : ১৪ মার্চ, ২০২৬ ১৯:০৯

বগুড়ায় কারাগারে পুলিশে দেওয়া পঙ্গু আ.লীগ নেতার মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক
বগুড়ায় কারাগারে পুলিশে দেওয়া পঙ্গু আ.লীগ নেতার মৃত্যু

কারাবন্দি অবস্থায় হাসপাতালে মারা গেলেন বগুড়ার আওয়ামী লীগ নেতা শাহনূর আলম শান্ত

বগুড়া প্রতিনিধি

বগুড়া থেকে গ্রেপ্তার আওয়ামী লীগ নেতা শাহনূর আলম শান্ত (৬০) কারাবন্দি অবস্থায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। শুক্রবার (১৩ মার্চ) রাতে ঢাকার জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

বগুড়া জেলা কারাগারের জেলার নুরুল মুবীন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে বগুড়া কারাগারে থাকা অবস্থায় আরও পাঁচ আওয়ামী লীগ নেতার মৃত্যু হয়েছে। তারা হলেন—গাবতলী উপজেলার দক্ষিণপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এমদাদুল হক ওরফে ভুট্টু (৫২), গাবতলী উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য আবদুল মতিন মিঠু (৬৫), জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শাহাদত আলম ঝুনু (৫৭), শিবগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ আবদুল লতিফ (৬৭) এবং বগুড়া পৌরসভার ১৫ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম রতন (৫৮)।

কারাগার ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, শাহনূর আলম শান্ত বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার হাটশেরপুর ইউনিয়নের নিজবলাইল গ্রামের মৃত সেকেন্দার আলী প্রামানিকের ছেলে। তিনি হাটশেরপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ছিলেন। ২০১৮ সালে এক সড়ক দুর্ঘটনায় তিনি ডান পা হারান এবং পায়ে রড বসানো ছিল। কৃত্রিম পায়ের সাহায্যে চলাফেরা করতেন।

পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ৪ জানুয়ারি দুপুরে তিনি গোপনে বগুড়া শহরের নারুলী কৃষি ফার্ম এলাকার একটি বিউটি পার্লারে স্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে আসেন। এ সময় সারিয়াকান্দি এলাকার কিছু বিএনপি নেতাকর্মী তাকে চিনতে পেরে আটক করে মারধর করেন। পরে খবর পেয়ে সদর থানা পুলিশ তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

সেদিনই বগুড়া জেলা মহিলা দলের যুগ্ম সম্পাদক সুরাইয়া জেরিন রনির করা নাশকতা ও হত্যাচেষ্টার মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে বগুড়া জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।

কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, গত ১৭ জানুয়ারি তাকে ঢাকার কেরানীগঞ্জ কারাগারে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে ঢাকার জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার রাত ১০টার দিকে তিনি মারা যান। ময়নাতদন্তের জন্য তার মরদেহ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বগুড়া সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) অমিত হাসান মাহমুদ জানান, ‘৯৯৯’-এ ফোন পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। পরে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে নাশকতা ও হত্যাচেষ্টার মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল।

উপরে