বগুড়া শহর এড়িয়ে নতুন রেলপথের প্রস্তাব, বর্তমান রেলস্টেশন হবে বাস টার্মিনাল
বগুড়া শহরের দীর্ঘদিনের যানজট সমস্যা নিরসনে শহর এড়িয়ে নতুন রেলপথ নির্মাণের প্রস্তাব দিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। একই সঙ্গে শহরের ভেতর দিয়ে যাওয়া বিদ্যমান রেললাইন অপসারণ করে সেখানে চার লেনের সড়ক নির্মাণ এবং বর্তমান রেলস্টেশনকে আধুনিক দূরপাল্লার বাস টার্মিনালে রূপান্তরের পরিকল্পনাও তুলে ধরা হয়েছে।
বুধবার (৩ জুন) এ বিষয়ে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে একটি আধা-সরকারি (ডিও) পত্র পাঠানোর তথ্য বিএনপি মিডিয়া সেলের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজ ও প্রতিমন্ত্রীর নিজস্ব পোস্টে নিশ্চিত করা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা ও আধুনিক নগর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বগুড়া শহরকে বাইপাস করে রাণীরহাট জংশন থেকে সরাসরি গাবতলী পর্যন্ত নতুন রেল সংযোগ স্থাপনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এ প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে রেলপথ মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) প্রস্তুতের প্রাথমিক কাজ শুরু করেছে।
ডিও পত্রে উল্লেখ করা হয়, কাহালু থেকে বগুড়া শহর হয়ে গাবতলী পর্যন্ত বিদ্যমান রেলপথটি শহরের ঘনবসতিপূর্ণ ও ব্যস্ত এলাকা অতিক্রম করেছে। এ পথে থাকা সাতটি গুরুত্বপূর্ণ রেলক্রসিংয়ের কারণে প্রতিদিন ট্রেন চলাচলের সময় তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। এতে শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, রোগীসহ সাধারণ মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী তার প্রস্তাবে রাণীরহাট জংশনকে কেন্দ্র করে কাহালু-রাণীরহাট-গাবতলী রুটে আধুনিক রেল নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার আহ্বান জানান। তাঁর মতে, শহরের বাইরে দিয়ে নতুন রেলপথ নির্মিত হলে বিদ্যমান রেললাইন অপসারণ করে সেখানে গাবতলী থেকে কাহালু পর্যন্ত চার লেনের সড়ক নির্মাণ করা সম্ভব হবে।
এ ছাড়া বর্তমানে শহরের ভেতরে অবস্থিত রেলস্টেশনটি সংস্কার করে দূরপাল্লার বাসের জন্য আধুনিক বাসস্ট্যান্ডে রূপান্তরের পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বগুড়া শহর রেলক্রসিংকেন্দ্রিক যানজট থেকে স্থায়ীভাবে মুক্তি পাবে। একই সঙ্গে উত্তরাঞ্চলের রেল যোগাযোগ আরও নিরাপদ ও গতিশীল হবে। এটি বগুড়া শহরের ইতিহাসে অন্যতম বড় অবকাঠামোগত পরিবর্তন হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
