প্রকাশিত : ১২ জুন, ২০২৬ ০০:৩৩
বগুড়ায় কৃত্রিম সংকটের অভিযোগে অস্থির সিগারেট বাজার
নিজস্ব প্রতিবেদক
জাতীয় বাজেট ঘোষণার আগেই বগুড়ার সিগারেট বাজারে সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যের অভিযোগ উঠেছে। দাম বাড়ার গুঞ্জনকে কেন্দ্র করে বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন খুচরা ব্যবসায়ীরা। তাদের অভিযোগ, কোম্পানিগুলো চাহিদা অনুযায়ী সিগারেট সরবরাহ না করায় বাধ্য হয়ে পাইকারি বাজার থেকে অতিরিক্ত দামে পণ্য কিনতে হচ্ছে। এর প্রভাব পড়ছে সরাসরি সাধারণ ক্রেতাদের ওপর।
খুচরা ব্যবসায়ীরা জানান, বর্তমানে বাজারে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের সিগারেট কোম্পানির নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। এর মধ্যে ব্যানসন প্রতি প্যাকেট কোম্পানির মূল্য ৩০০ টাকা হলেও বাজারে কিনতে হচ্ছে প্রায় ৪০০ টাকায়। গোল্ডলিফের ২৮০ টাকার প্যাকেট বিক্রি হচ্ছে ৩০০ টাকায়। এছাড়া লাকি স্ট্রাইক ২১৬ টাকার পরিবর্তে ২২০ টাকা, নেভি ৮০ টাকার পরিবর্তে ৮৫ টাকা, স্টার ৮০ টাকার পরিবর্তে ৯৪ টাকা, রয়েল ৬৩ টাকার পরিবর্তে ৭০ টাকা এবং ডার্বি ৭২ টাকার পরিবর্তে ৭৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
তাদের দাবি, আগে কোম্পানির ভ্যানগাড়ি সরাসরি দোকানে এসে চাহিদা অনুযায়ী পণ্য সরবরাহ করত। কিন্তু কয়েকদিন ধরে আগের মতো সরবরাহ মিলছে না। ফলে খুচরা ব্যবসায়ীদের পাইকারি বাজারের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। সেখানে বাড়তি দামে সিগারেট কিনে গ্রাহক পর্যায়ে প্রতি শলাকায় ১ থেকে ২ টাকা বেশি নিতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।
একাধিক ব্যবসায়ীর অভিযোগ, বাজেটে সিগারেটের দাম বাড়তে পারে—এমন গুঞ্জনকে পুঁজি করে একটি অসাধু সিন্ডিকেট বাজার নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে। কৃত্রিম সংকট তৈরি করে অতিরিক্ত মুনাফা হাতিয়ে নেওয়ার অপচেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।
এদিকে বাজারে প্রকাশ্যে অতিরিক্ত দামে সিগারেট বিক্রি হলেও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কার্যকর নজরদারি না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ব্যবসায়ী ও সাধারণ ক্রেতারা। তাদের প্রশ্ন, দীর্ঘদিন ধরে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সিগারেট বিক্রি হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কেন নীরব ভূমিকা পালন করছে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্ট কোম্পানির টেরিটরি সেলস অফিসার (টিএসও) হাসান। তিনি বলেন, “আমাদের কোনো সংকট নেই। একজন খুচরা ব্যবসায়ীর সারাদিনের যে পরিমাণ সিগারেট প্রয়োজন, আমরা সেই চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ করছি।”
এদিকে বাজারে সরবরাহ সংকট ও অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির বিষয়ে প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন খুচরা ব্যবসায়ীরা। তাদের মতে, বাজেটকে সামনে রেখে কেউ যেন কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে বাজার অস্থিতিশীল করতে না পারে, সে বিষয়ে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
