প্রকাশিত : ২১ জুন, ২০২৬ ২৩:৫৪

বগুড়ায় শিশু রিফাত হত্যা মামলায় ৫ জনের ফাঁসি, ৫ জনের ১০ বছর কারাদণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক
বগুড়ায় শিশু রিফাত হত্যা মামলায় ৫ জনের ফাঁসি, ৫ জনের ১০ বছর কারাদণ্ড
দীর্ঘ আট বছর পর বগুড়ার বহুল আলোচিত শিশু রিফাত হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেছেন আদালত। রায়ে পাঁচ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং অপর পাঁচ আসামিকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। স্বাধীনতা যুদ্ধের পর বগুড়ার আদালতে একসঙ্গে পাঁচজনের মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণার ঘটনা এটিই প্রথম বলে জানা গেছে।
রবিবার (২১ জুন) দুপুরে বগুড়া নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক মো. আনোয়ারুল হক এ রায় ঘোষণা করেন। রায়ে নিহত শিশু রিফাতের পরিবার সন্তোষ প্রকাশ করেছে। স্থানীয়দের মধ্যেও রায়কে ঘিরে সন্তোষের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১৮ সালের ১৫ জুলাই বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনাল খেলা চলাকালে বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার গোহাইল ইউনিয়নের খাদাস বাজার এলাকার ব্যবসায়ী ও সাবেক কুয়েত প্রবাসী এনামুল হকের ৮ বছর বয়সী ছেলে রিফাত নিখোঁজ হয়। সন্ধ্যার পর থেকে পরিবারের সদস্য ও গ্রামবাসী তাকে খুঁজতে থাকলেও কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরদিন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের পরামর্শে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।
ঘটনার পরপরই শাজাহানপুর থানা পুলিশ তদন্ত শুরু করে। ১৬ জুলাই সকালে রিফাতের বাবা এনামুল হকের মোবাইল ফোনে কল করে অপহরণকারীরা পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে এবং টাকা নিয়ে জামাদারপুকুর বাসস্ট্যান্ডে আসতে বলে। মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে পুলিশের গোয়েন্দা তৎপরতা ও আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় ঘটনায় জড়িতদের পরিচয় শনাক্ত করা হয়। পরে অভিযান চালিয়ে একাধিক সন্দেহভাজনকে আটক করা হলেও প্রথমদিকে তাদের কাছ থেকে রিফাতের হত্যার বিষয়ে কোনো স্বীকারোক্তি পাওয়া যায়নি।
এরই মধ্যে ১৮ জুলাই সকালে শাজাহানপুর উপজেলার পোয়ালগাছা এলাকার ভদ্রাবতী (স্রাবতী) নদীর সিংহবাড়ি ব্রিজের নিচ থেকে শিশু রিফাতের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মরদেহ উদ্ধারের পর রিফাতের বাবা এনামুল হক কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে শাজাহানপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে রবিবার আদালত এ মামলার রায় ঘোষণা করেন। মামলার রায়ে পাঁচ আসামির মৃত্যুদণ্ড এবং পাঁচ আসামির ১০ বছর করে কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়। আদালতের এ রায়কে ন্যায়বিচারের প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন নিহত রিফাতের স্বজনরা।
 
 

 
 
উপরে