বগুড়ায় সাংবাদিক সবুর শাহ লোটাসের ১০ তলা ভবন নিয়ে তদন্তের নির্দেশ
বগুড়া শহরে সাংবাদিক সবুর শাহ লোটাসের নির্মিত ১০ তলা ভবনকে ঘিরে এলাকাবাসীর উদ্বেগ, নিরাপত্তাহীনতা ও নির্মাণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ।
গত ২৯ জুন স্থানীয় সরকার বিভাগের সিটি কর্পোরেশন-২ শাখা থেকে জারি করা এক অফিস আদেশে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। উপসচিব মো. রবিউল ইসলামের স্বাক্ষরিত ওই আদেশে স্থানীয় সরকার বিভাগের আইন উপদেষ্টা (জেলা ও দায়রা জজ) এম. এ. সাঈদকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আগামী ১০ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, ভবনটি নির্মাণকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা ও নিরাপত্তাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে। এ কারণে অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহে তদন্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সরেজমিনে এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে প্রচলিত নির্মাণবিধি, নিরাপত্তা নীতিমালা এবং নগর পরিকল্পনার বিভিন্ন বিষয় যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি বলে তাদের অভিযোগ। এছাড়া ভবনের চারপাশে প্রয়োজনীয় খোলা জায়গা রাখা হয়নি বলেও দাবি করেন তারা।
এলাকাবাসীর ভাষ্য, ভবনটি ঘনবসতিপূর্ণ আবাসিক ও বাণিজ্যিক এলাকায় অবস্থিত। ফলে ভবিষ্যতে কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে আশপাশের বাসিন্দা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের লোকজনও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারেন।
এদিকে তদন্তের নির্দেশসংবলিত চিঠি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে নানা আলোচনা শুরু হয়। এ বিষয়ে একটি ফেসবুক পোস্টে সাংবাদিক সবুর শাহ লোটাস মন্তব্য করেন, বগুড়া শহরে তাঁর ভবনই একমাত্র নয়; পৌরসভা আমলে নির্মিত প্রায় ১১০টি ভবন আগেই চিহ্নিত হয়েছে। তাঁর দাবি, অনেক ভবন ছয়তলার অনুমোদিত নকশা নিয়ে ১০ তলা পর্যন্ত নির্মাণ করা হয়েছে।
তিনি আরও লেখেন, শুধু তাঁর ভবন নয়, নিয়মবহির্ভূতভাবে নির্মিত সব ভবনের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমানভাবে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। একই সঙ্গে তিনি সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এবং সবার ক্ষেত্রে একই নীতি প্রয়োগের আহ্বান জানান।
তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত বা প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
