শেরপুরে ৫০০ বছরের প্রাচীন খেরুয়া মসজিদের সড়কে জলাবদ্ধতায় চরম দুর্ভোগে পাঁচ শতাধিক পরিবার
বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় মুঘল আমলের ঐতিহ্যবাহী নিদর্শন ৫০০ বছরের প্রাচীন ‘খেরুয়া মসজিদ’ যাতায়াতের সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে আছে। সামান্য বৃষ্টিতেই সৃষ্টি হচ্ছে জলাবদ্ধতা, ফলে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন ওই এলাকার প্রায় পাঁচ শতাধিক পরিবার ও মসজিদে আসা দর্শনার্থীরা।
উপজেলার শাহবন্দেগী ইউনিয়নের হামছাপুর মধ্যপাড়ায় অবস্থিত প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর কর্তৃক সংরক্ষিত এই ঐতিহাসিক মসজিদের সামনের সড়কের সলিং উঠে গিয়ে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় খানাখন্দ। বৃষ্টির পানিতে পুরো সড়কটি তলিয়ে থাকায় কোথাও কোথাও পথচারীদের উরু পর্যন্ত পানি মাড়িয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। সড়কের গর্তগুলো পানির নিচে থাকায় মোটরসাইকেল, অটোভ্যানসহ বিভিন্ন যানবাহন ঝুঁকি নিয়ে চলছে, যা প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, এই এলাকায় প্রায় ৫০০ পরিবার বসবাস করে। দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি সংস্কার না হওয়ায় মসজিদে নামাজ পড়তে যাওয়া, শিশুদের স্কুলে পাঠানো কিংবা জরুরি প্রয়োজনে হাসপাতালে যাতায়াত করা দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। বারবার সংস্কারের দাবি জানানো হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো কার্যকর পদক্ষেপ চোখে পড়েনি।
সাবেক ইউপি সদস্য মো: লিটন জানান, বিগত ১৭ বছরে বহুবার চেষ্টা করেছি রাস্তাটি সংস্কার করা সম্ভব হয়নি। এই রাস্তাদিয়ে প্রায় ৪০ হাজার লোক যাতায়াত করেন। আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানাই, যেন দ্রুত এই রাস্তা সংস্কারের ব্যবস্থা করা হয়।
ঐতিহাসিক এই নিদর্শনের রক্ষণাবেক্ষণে নিয়োজিত প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, “গত ১০-১২ দিন ধরে রাস্তাটি পানির নিচে তলিয়ে আছে। এখানে পানি নিষ্কাশনের কোনো সুব্যবস্থা নেই। আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই সড়কটির এই করুণ দশা দেখে আসছি।”
