প্রকাশিত : ১৫ জুলাই, ২০২৬ ০০:২১

এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিতের দাবিতে বগুড়ায় সড়ক অবরোধ, ডিসি কার্যালয় ঘেরাও

নিজস্ব প্রতিবেদক
এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিতের দাবিতে বগুড়ায় সড়ক অবরোধ, ডিসি কার্যালয় ঘেরাও

দেশের সার্বিক দুর্যোগ পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত এবং শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে বগুড়ায় বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ঘেরাও করে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন শিক্ষার্থীরা।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে শহরের প্রাণকেন্দ্র সাতমাথা এলাকায় বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থীরা জড়ো হয়ে সড়ক অবরোধ করেন। এতে সাতমাথা ও আশপাশের সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে বেলা ১১টার দিকে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে অবস্থান নেন।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান, তিন দফা দাবিতে তারা এ কর্মসূচি পালন করছেন। দাবিগুলো হলো— দেশের দুর্যোগ পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত রাখা, বৈরী আবহাওয়ার কারণে গত সোমবার পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারা শিক্ষার্থীদের পুনরায় পরীক্ষার সুযোগ দেওয়া এবং আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ।

শিক্ষার্থীরা জানান, তাদের কয়েকজন প্রতিনিধি জেলা প্রশাসকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে দাবিগুলো তুলে ধরেছেন। দাবি বাস্তবায়ন না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে বলেও তারা ঘোষণা দেন।

আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী সিয়াম বলেন, “দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া থাকার পরেও শিক্ষামন্ত্রী ভালো-মন্দ যাচাই না করে এক হাঁটু পানির ভিতরে পরীক্ষা দিতে বাধ্য করছেন। আমাদের ওপর কী রকম মানসিক চাপ সৃষ্টি হচ্ছে, তা আমরাই বুঝতে পারছি।”

আরেক শিক্ষার্থী সুনাম সাদিক বলেন, “সব সংস্কার বা পরীক্ষামূলক সিদ্ধান্ত কেন কেবল একটি ব্যাচের ওপর দিয়েই চালানো হচ্ছে? সিটি কর্পোরেশন ও স্থানীয় প্রশাসন যেখানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সময়ের কথা বলছে, সেখানে শিক্ষামন্ত্রী কেন তড়িঘড়ি করে সবকিছু চাপিয়ে দিচ্ছেন?”

করতোয়া মাল্টিমিডিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী ফারিহা বলেন, “সম্প্রতি অনুষ্ঠিত পদার্থবিজ্ঞান পরীক্ষার প্রশ্নপত্র নিয়ে শিক্ষকরাও ক্ষুব্ধ। এই ধরনের প্রশ্ন কোথা থেকে এবং কেন করা হলো?”

শিক্ষার্থীরা বলেন, বন্যা ও দুর্যোগ পরিস্থিতির মধ্যে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তারা অবিলম্বে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেন এবং দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।

বগুড়ার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মেজবাউল করিম বলেন, “শিক্ষার্থীদের দাবির বিষয়ে শুনেছি। তাদের দাবিগুলো ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। আশা করছি, তাদের যৌক্তিক দাবিগুলো খুব দ্রুতই পূরণ হবে।”

উপরে