প্রকাশিত : ১৯ জুলাই, ২০২৬ ০১:০০

ধুনটে গৃহবধূর লাশের পাশে কাঁদছিল ৩ মাসের শিশু, স্বামীসহ পরিবারের সদস্যরা পলাতক

ধুনট, বগুড়া সংবাদদাতাঃ
ধুনটে গৃহবধূর লাশের পাশে কাঁদছিল ৩ মাসের শিশু, স্বামীসহ পরিবারের সদস্যরা পলাতক

বগুড়ার ধুনটে স্বামীর বাড়ি থেকে নাম্মি আক্তার নিপা (২০) নামে এক গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ সময় লাশের পাশে তিন মাস বয়সী শিশুসন্তান নাহিদ মোল্লাকে কান্নারত অবস্থায় পাওয়া যায়। ঘটনার পর স্বামীসহ পরিবারের সদস্যরা বাড়ি থেকে পালিয়ে গেছেন বলে জানা গেছে।

বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার নিমগাছি ইউনিয়নের শিয়ালী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় নিপার মা জুলেখা বেগম ধুনট থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা করেছেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শিয়ালী গ্রামের ফরহাদ মোল্লার ছেলে দিনমজুর বাহাদুর মোল্লার সঙ্গে তিন বছর আগে গাবতলী উপজেলার বড় ইটালী গ্রামের লালমিয়া প্রামাণিকের মেয়ে নিপার বিয়ে হয়। সংসারে অভাব-অনটন নিয়ে তাঁদের মধ্যে প্রায়ই দাম্পত্যকলহ হতো। তাঁদের একটি ছেলে সন্তান রয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ১৫ জুলাই সকালে বাহাদুর মোল্লা স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে যান। সেখানে স্ত্রী-সন্তানকে রেখে তিনি নিজ বাড়িতে ফিরে আসেন। পরদিন ১৬ জুলাই দুপুরে আবার শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে বিকেলে স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে নিজ বাড়িতে ফেরেন।

সন্ধ্যায় প্রতিবেশীরা নিপার পরিবারের সদস্যদের ফোন করে জানান, নিপা গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। খবর পেয়ে নিপার স্বজনেরা ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখতে পান, শিশুসন্তানটি লাশের পাশে কান্না করছে। এ সময় স্বামী বাহাদুর মোল্লাসহ পরিবারের সদস্যদের কাউকে বাড়িতে পাওয়া যায়নি। পরে রাতেই নিপার স্বজনেরা শিশুটিকে উদ্ধার করেন।

খবর পেয়ে রাত ১১টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নিপার লাশ উদ্ধার করে। শুক্রবার সকালে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

ধুনট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুল ইসলাম বলেন, লাশের শরীরে আঘাতের কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি। পারিবারিক কলহের কারণে গৃহবধূটি আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ ঘটনায় থানায় অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।

উপরে