প্রকাশিত : ১৯ জুলাই, ২০২৬ ০১:৩৫

বগুড়া প্রেসক্লাবে জুলাই শহীদ দিবসের আলোচনা সভা

নিজস্ব প্রতিবেদক
বগুড়া প্রেসক্লাবে জুলাই শহীদ দিবসের আলোচনা সভা

জুলাই শহীদ দিবস-২০২৬ স্মরণে বগুড়া প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার আয়োজিত এ সভায় বক্তারা জুলাই আন্দোলনের ইতিহাস সংরক্ষণ, আহতদের সুচিকিৎসা এবং শহীদদের আত্মত্যাগের চেতনায় ঐক্যবদ্ধভাবে গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান।

সভার শুরুতে কোরআন তেলাওয়াত করেন সাংবাদিক ফেরদৌসুর রহমান। পরে জুলাই আন্দোলনে শহীদদের স্মরণে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

সভায় বক্তারা বলেন, জুলাই আন্দোলনের ইতিহাস বিকৃতির যেকোনো অপচেষ্টা প্রতিহত করতে হবে। একই সঙ্গে আন্দোলনে আহতদের সুস্বাস্থ্য ও শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে সব ষড়যন্ত্র ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিহত করার আহ্বান জানান তারা।

সভায় বক্তব্য দেন বর্ষীয়ান সাংবাদিক আব্দুর রহিম বগরা, মীর্জা সেলিম রেজা, শফিকুল ইসলাম, সবুর শাহ লোটাস, আব্দুর রহিম, ইনছান আলী শেখ, কালাম আজাদ, রেজাউল হক বাবু, আবুল কালাম আজাদ, মামুন-উর-রশিদ, সানাউল হক শুভ, মোস্তফা মোঘল, আইনুর ইসলাম ও গোলজার হোসেন মিটুসহ অনেকে। সভা সঞ্চালনা করেন প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক কালাম আজাদ।

আলোচনায় কালাম আজাদ জুলাই আন্দোলনের সময়কার জেলজীবনের স্মৃতিচারণ করেন। সবুর শাহ লোটাস পলিটেকনিক এলাকায় আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়ার কারণে নিজের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া দুটি মামলার কথা তুলে ধরেন।

বর্ষীয়ান সাংবাদিক আব্দুর রহিম বগরা ‘৩৬ জুলাই’–এর স্মৃতিচারণ করে বগুড়ার জুলাই আন্দোলনের প্রতিটি ঘটনা লিপিবদ্ধ করার লক্ষ্যে একটি সেল গঠনের পরামর্শ দেন।

সাংবাদিক মীর্জা সেলিম রেজা বলেন, জুলাই আন্দোলনের সময় যারা মাঠে থেকে লিখেছেন, তারা জুলাইয়ের ইতিহাসের অংশ। তিনি ওই সময়ের ঘটনাবলি নথিভুক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, সে সময় বগুড়া প্রেসক্লাব থেকে আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে সভায় কোনো স্বাধীন তদন্ত বা প্রামাণ্য নথি উপস্থাপন করা হয়নি।

সাংবাদিক মোস্তফা মোঘল জুলাই আন্দোলনের ইতিহাস বিকৃত না করার আহ্বান জানান। তিনি অভিযোগ করেন, আন্দোলনের বিরোধিতাকারীদের কেউ কেউ পরবর্তী সময়ে নিজেদের জুলাইযোদ্ধা হিসেবে পরিচয় দিচ্ছেন।

সাংবাদিক মামুন-উর-রশিদ বলেন, দীর্ঘ আন্দোলনের পথ বেয়ে জুলাইয়ের সৃষ্টি হয়েছে। জুলাই শহীদ ও যোদ্ধাদের আত্মত্যাগ স্মরণ করে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যেতে হবে।

সাংবাদিক আবুল কালাম আজাদ জুলাই আন্দোলনে বগুড়ায় নিহত ১৭ শহীদের মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির দাবি জানান। তিনি শহীদ আবু সাঈদসহ সব শহীদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন।

সাংবাদিক আইনুর ইসলাম বলেন, দীর্ঘ চড়াই-উতরাই পেরিয়ে দেশ একটি নতুন অবস্থানে এসেছে। জুলাইয়ের পক্ষের শক্তিকে যথাযথভাবে মূল্যায়ন করতে হবে।

সাংবাদিক সানাউল হক শুভ অভিযোগ করেন, বগুড়া প্রেসক্লাবে এখনো জুলাই আন্দোলনের বিরোধিতাকারীদের কেউ কেউ সক্রিয় রয়েছেন। সাংবাদিক ইনছান আলী শেখও জুলাই আন্দোলনের সময়কার বিভিন্ন ঘটনা তুলে ধরে গণতান্তান্ত্রিক সমাজ বিনির্মাণে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।

সাংবাদিক গোলজার হোসেন মিটু বলেন, ৪ আগস্ট পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে পুলিশের হামলায় আক্রান্ত হয়ে তিনি প্রায় তিন ঘণ্টা অচেতন ছিলেন।

সাংবাদিক শফিকুল ইসলাম বলেন, জুলাই আন্দোলনের ছবি প্রকাশের কারণে তাকে গোয়েন্দা সংস্থার জিজ্ঞাসাবাদ ও ভয়ভীতির মুখে পড়তে হয়েছিল। তিনি আরও দাবি করেন, এ সময় তাকে সাময়িকভাবে চাকরিচ্যুত করা হয় এবং দুই সাংবাদিক তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন। এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য জানা যায়নি।

সভায় আরও বক্তব্য দেন রেজাউল হক বাবু ও আব্দুর রহিমসহ অন্যরা।

সমাপনী বক্তব্যে বগুড়া প্রেসক্লাবের সভাপতি রেজাউল হাসান রানু বলেন, ‘৪ আগস্ট বগুড়া ছিল মিছিলের নগরী।’ জুলাই শহীদদের আত্মত্যাগের উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন এবং বৈষম্যহীন গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা সফল করতে ‘৩৬ জুলাই’–এর আদর্শ ধারণ করে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

উপরে