বগুড়ার শেরপুরে নিখোঁজ শিশুর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার, অটোভ্যান চুরির ‘সাক্ষী’ হওয়ায় হত্যার দাবি পুলিশের
বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় নিখোঁজের প্রায় দুই দিন পর রাজু (১১) নামে এক শিশুর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। অটোভ্যান চুরির একমাত্র সাক্ষী হয়ে যাওয়ায় তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করছে পুলিশ।
এ ঘটনায় অটোভ্যান চুরি ও হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে মুস্তাকিম (২৪) ও করিম নামে দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শিশুটির মরদেহ উদ্ধারের খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে ক্ষুব্ধ জনতা প্রধান অভিযুক্ত মুস্তাকিমের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সন্ধ্যায় শেরপুর থানায় আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম মঈনুদ্দীন।
নিহত রাজু শেরপুর উপজেলার সীমাবাড়ী ইউনিয়নের ররোয়া গ্রামের জনক আলমের ছেলে। বৃহস্পতিবার বিকেলে শেরপুর উপজেলার রানীরহাট বাজার-সংলগ্ন এলাকা থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দূরে সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার বড়ইচড়া গ্রামের একটি ধানক্ষেত থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ৪ আগস্ট একই গ্রামের বাসিন্দা মুস্তাকিম রাজুকে সঙ্গে নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন। রাজু মাঝেমধ্যে মুস্তাকিমের ভগ্নিপতির মালিকানাধীন ব্যাটারিচালিত অটোভ্যান চালিয়ে কৃষিকাজে সহায়তা করত। পুলিশের ভাষ্য, ওই অটোভ্যানটি চুরির পরিকল্পনা করেছিলেন মুস্তাকিম এবং সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সময় রাজুকেও সঙ্গে নেওয়া হয়।
প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ জানায়, পরে মির্জাপুর এলাকার পুরোনো অটোভ্যান কেনাবেচার ব্যবসায়ী করিমের কাছে ভ্যানটি বিক্রির চেষ্টা করা হয়। তবে রাজুকে সঙ্গে দেখে করিম আপত্তি জানান। এরপর চুরির ঘটনা ফাঁস হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় শিশুটিকে হত্যা করা হয় বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা জানিয়েছেন বলে দাবি পুলিশের। পরে মরদেহ সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার বড়ইচড়া গ্রামের একটি ধানক্ষেতে ফেলে রাখা হয়।
রাজুকে খুঁজে না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা প্রথমে মুস্তাকিমের বাড়িতে যান। পরে বৃহস্পতিবার দুপুর আড়াইটার দিকে রাজুর বাবা জনক আলম শেরপুর থানায় মামলা করেন। অভিযোগের পর তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পার্শ্ববর্তী রায়গঞ্জ উপজেলার একটি বাড়ি থেকে মুস্তাকিমকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে করিমকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের দেখানো স্থান থেকে রাজুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এ সময় করিমের শ্বশুরবাড়ি থেকে খণ্ড-বিখণ্ড অবস্থায় রাখা চুরি হওয়া অটোভ্যানের চারটি ব্যাটারি, দুটি চাকা, চেসিস ও একটি চার্জার উদ্ধার করেছে পুলিশ।
শেরপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) বিকাশ চক্রবর্তী জানান, শিশুটির মাথা কাদামাটির নিচে চাপা দেওয়া ছিল। মরদেহে পচন ধরেছিল এবং বাঁ পায়ে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
মরদেহ উদ্ধারের খবর এলাকায় পৌঁছালে বিক্ষুব্ধ জনতা মুস্তাকিমের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। তবে ঘটনার সময় বাড়িতে পরিবারের কোনো সদস্য না থাকায় হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
ওসি এস এম মঈনুদ্দীন বলেন, শুক্রবার গ্রেপ্তার দুই আসামিকে আদালতে সোপর্দ করা হবে। জিজ্ঞাসাবাদে নতুন তথ্য পাওয়া গেলে তাদের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করা হবে। এছাড়া হত্যাকাণ্ডে অন্য কেউ জড়িত থাকলে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে। তিনি আরও বলেন, মরদেহের অবস্থা দেখে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ৪ আগস্ট সন্ধ্যা বা রাতেই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর সময় ও প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
