গ্রামে গ্রামে গিয়ে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হবে: প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেছেন, গ্রামে গ্রামে স্বাস্থ্যকর্মীরা গিয়ে মানুষের খোঁজখবর নেবেন। তাঁরা রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস পরীক্ষা করবেন এবং হাসপাতালে যাওয়ার আগেই প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করবেন। সরকারের পক্ষ থেকে বাড়ি বাড়ি গিয়ে এ সেবা দেওয়া হবে।
রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার আলিয়ারহাট রোকেয়া-ছাত্তার উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত বিনামূল্যে চক্ষুচিকিৎসা ও ছানি অপারেশন কার্যক্রমের দ্বিতীয় দিনের অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
রাজনৈতিক প্রসঙ্গ টেনে প্রতিমন্ত্রী বলেন, জামায়াতে ইসলামী ধর্মকে পুঁজি করে রাজনীতি করলেও ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের কথা ভাবেনি। তাঁর দাবি, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁদের কথা ভেবেছেন। দেশের তিন লক্ষাধিক মসজিদের ইমাম ও খাদেমকে আগামী তিন বছরের মধ্যে জাতীয় স্বীকৃতি দিয়ে বেতন-ভাতার আওতায় আনা হবে।
মীর শাহে আলম আরও বলেন, তারেক রহমান ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, বৃক্ষরোপণ, মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা এবং খাল খননসহ বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি গ্রহণ করেছেন। আগামী পাঁচ বছরে সারা দেশে ২৫ কোটি গাছ লাগানো হবে বলেও তিনি জানান।
চক্ষুচিকিৎসা কার্যক্রমের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, তাঁর নির্বাচনী এলাকার যাঁদের চোখের সমস্যা রয়েছে, তাঁদের সবার চোখের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে চান তিনি। এতে মানুষ নিজের জীবন-জীবিকা পরিচালনার পাশাপাশি ব্যালট পেপারে ধানের শীষ প্রতীক দেখে সঠিকভাবে ভোট দিতে পারবেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এর আগে রোববার বেলা সাড়ে ১১টায় শিবগঞ্জ সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ৫৪৮ জন মেধাবী ছাত্রীর হাতে গোলাপি রঙের বাইসাইকেল তুলে দেওয়া হয়। এ ছাড়া এক হাজার ৫০০ শিক্ষার্থীকে ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের ছবিসংবলিত মগ দেওয়া হয়। আয়োজকদের ভাষ্য, নারীশিক্ষার প্রসার, ছাত্রীদের যাতায়াত সহজ করা এবং পড়াশোনায় উৎসাহিত করতে এসব উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে।
নারীর ক্ষমতায়ন ও শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আজকের ছাত্রীরাই আগামীর ভবিষ্যৎ। বাল্যবিবাহ ও ইভটিজিং প্রতিরোধে সবাইকে সচেতন হতে হবে। মেয়েরা যাতে নিরাপদে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করতে পারে এবং পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারে, সে জন্য সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
সাইকেল বিতরণ অনুষ্ঠানে মীর শাহে আলম বলেন, ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলেও তিনি ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের জন্মদিন উদযাপন করেছেন। সে সময় দোয়া মাহফিল, এতিমদের খাবার বিতরণ ও চিকিৎসাসেবাসহ বিভিন্ন মানবিক কর্মসূচি নেওয়া হয়েছিল। এ ছাড়া জিয়া পরিবারের মঙ্গল কামনায় গত ২০ বছর ধরে প্রতি শুক্রবার দেওয়ানতলা মাজার এলাকায় অসহায় মানুষের মধ্যে দুপুরের খাবার বিতরণ করা হচ্ছে বলে তিনি জানান।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জিয়াউর রহমান, প্রতিমন্ত্রীর সহধর্মিণী মীর লাবনী আকতার, রূপসী বিডি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মীর শাকরুল আলম সীমান্ত, তাঁর স্ত্রী মীর ফারিয়া তাবাসসুম এবং প্রতিমন্ত্রীর মেয়ে মীর সামারা সুনাত। অনুষ্ঠান শেষে ব্যারিস্টার জাইমা রহমানসহ জিয়া পরিবারের সদস্যদের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
আয়োজকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আলিয়ারহাট রোকেয়া-ছাত্তার উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে পরিচালিত চক্ষুচিকিৎসা কার্যক্রমে প্রায় চার হাজার মানুষকে সেবা দেওয়া হয়েছে। এর আগে প্রথম দিনে মোকামতলা এলাকার সৈয়দপুর ইউনিয়নে দুই হাজার মানুষকে বিনামূল্যে চক্ষুচিকিৎসা দেওয়া হয়।
