প্রকাশিত : ২৬ অক্টোবর, ২০২৬ ০০:১১

জাইমা রহমানের জন্মদিনে বগুড়ায় ৫৪৮ ছাত্রীর হাতে গোলাপী সাইকেল

নিজস্ব প্রতিবেদক
জাইমা রহমানের জন্মদিনে বগুড়ায় ৫৪৮ ছাত্রীর হাতে গোলাপী সাইকেল

কেক কেটে উৎসব নয়, শিক্ষার্থীদের হাতে উপহার তুলে দেওয়া ও অসহায় মানুষের জন্য চিকিৎসাসেবার আয়োজনের মধ্য দিয়ে ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের জন্মদিন উদ্‌যাপন করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

রোববার (২৫ অক্টোবর) সকাল ১১টায় বগুড়ার শিবগঞ্জ সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে শিবগঞ্জ ও মোকামতলা এলাকার ৫৪৮ জন ছাত্রীর হাতে গোলাপি রঙের বাইসাইকেল তুলে দেন তিনি। এ ছাড়া এক হাজার ৫০০ শিক্ষার্থীকে দেওয়া হয় ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের ছবিসংবলিত মগ।

আয়োজকদের ভাষ্য, নারীশিক্ষার প্রসার, ছাত্রীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াত সহজ করা এবং পড়াশোনায় উৎসাহিত করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সাইকেল পেয়ে শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের ভোগান্তি কমবে এবং বিদ্যালয়ে নিয়মিত উপস্থিতি বাড়বে বলে তাঁরা আশা করছেন।

অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, আজকের ছাত্রীরাই আগামীর ভবিষ্যৎ। বাল্যবিবাহ ও ইভটিজিং প্রতিরোধে সবাইকে সচেতন হতে হবে। মেয়েরা যাতে নিরাপদে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করতে পারে এবং পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারে, সে জন্য সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।

তিনি বলেন, ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের জন্মদিন উপলক্ষে আগেও বিভিন্ন মানবিক কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলেও এ উপলক্ষে দোয়া মাহফিল, এতিমদের খাবার বিতরণ, চিকিৎসাসেবা ও চক্ষুচিকিৎসাসহ নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। এ ছাড়া জিয়া পরিবারের মঙ্গল কামনায় গত ২০ বছর ধরে প্রতি শুক্রবার দেওয়ানতলা মাজার এলাকায় অসহায় মানুষের মধ্যে দুপুরের খাবার বিতরণ করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

এদিকে একই দিন দুপুর ১২টায় শিবগঞ্জের আলিয়ারহাট রোকেয়া-ছাত্তার উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে দ্বিতীয় দিনের মতো বিনামূল্যে চক্ষুচিকিৎসা ও ছানি অপারেশন কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, দুই দিনে প্রায় চার হাজার মানুষকে এ সেবার আওতায় আনা হয়েছে। প্রথম দিনে মোকামতলা উপজেলার সৈয়দপুর ইউনিয়নে দুই হাজার মানুষকে বিনামূল্যে চক্ষুচিকিৎসা দেওয়া হয়।

চক্ষুসেবা কার্যক্রম প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, তাঁর নির্বাচনী এলাকার মানুষের চোখের সমস্যা দূর করতে চান তিনি। পর্যায়ক্রমে সবাইকে বিনামূল্যে চক্ষুসেবা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে জামায়াতে ইসলামীর সমালোচনা করে মীর শাহে আলম বলেন, দলটি ধোঁকাবাজির রাজনীতি করে। তাঁর দাবি, ভোটের সময় ধর্মীয় আবেগকে কাজে লাগানো হলেও ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের কল্যাণে তারা কার্যকর উদ্যোগ নেয়নি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁদের কথা ভেবেছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, তারেক রহমান ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, বৃক্ষরোপণ, মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা ও খাল খননসহ বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি গ্রহণ করেছেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান, প্রতিমন্ত্রীর সহধর্মিণী মীর লাবনী আকতার, রূপসী বিডি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মীর শাকরুল আলম সীমান্ত, তাঁর স্ত্রী মীর ফারিয়া তাবাসসুম এবং প্রতিমন্ত্রীর মেয়ে মীর সামারা সুনাতসহ অনেকে। অনুষ্ঠান শেষে ব্যারিস্টার জাইমা রহমানসহ জিয়া পরিবারের সদস্যদের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনায় দোয়া করা হয়।

উপরে