প্রকাশিত : ২৮ অক্টোবর, ২০২৬ ০০:০২

কাতারে চাকরির প্রলোভনে সাড়ে ৪ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
কাতারে চাকরির প্রলোভনে সাড়ে ৪ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ

‎বগুড়ার গাবতলীতে ছেলেকে কাতারে বৈধ ভিসায় চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মুছা আলম নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ ছাড়া বিদেশে দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে পঙ্গুত্ব বরণ করা ছেলের চিকিৎসা বিমা করে দেওয়ার কথা বলে আরও ১৩ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী বাবা মহিদুল ইসলাম। তাঁর অভিযোগ, টাকা নিয়েও বিমা করা হয়নি। পরবর্তীতে টাকা ফেরত চাইলে তাঁকে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হয়। এ ঘটনায় গাবতলী মডেল থানায় লিখিত অভিযোগের পাশাপাশি বগুড়ার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের গাবতলী আমলি আদালতে মামলা দায়ের করেছেন তিনি। মামলাটির নম্বর ৪৮৪/২০২৬।
‎অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বগুড়ার গাবতলী উপজেলার সোনারায় ইউনিয়নের খুপী মধ্যপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মহিদুল ইসলাম (৫৫) তাঁর ছেলে সিহাবকে (২২) বৈধ ভিসায় কাতারে চাকরি দেওয়ার জন্য মুছা আলমের সঙ্গে চুক্তি করেন। মুছা আলম কাতারে চাকরি করেন এবং মাঝেমধ্যে দেশে আসেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী, মুছা আলমের স্ত্রী ওহেদা বেগম এবং ছেলে রাব্বি মহিদুল ইসলামের কাছ থেকে নগদে মোট ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা গ্রহণ করেন।
‎অভিযোগে বলা হয়, ২০২৩ সালের ১১ অক্টোবর সিহাবকে কাতারে পাঠানো হয়। কিন্তু সেখানে পৌঁছানোর পর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী তাঁকে কোনো কাজ দেওয়া হয়নি। পরে জীবিকা নির্বাহের তাগিদে পরিবারের সদস্যরা অতিরিক্ত অর্থের ব্যবস্থা করে তাঁর কাজের ব্যবস্থা করেন।
‎এরপর কর্মস্থলে কাজ করার সময় এক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন সিহাব। তাঁর ঘাড়ের রগ ছিঁড়ে যাওয়ায় তিনি পঙ্গুত্ব বরণ করেন এবং কাতারের একটি সরকারি হাসপাতালে ভর্তি হন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
‎ছেলের দুর্ঘটনার খবর পেয়ে মহিদুল ইসলাম মুছা আলমকে বিষয়টি জানান। তখন ছেলের চিকিৎসার খরচ বহনের জন্য কাতার সরকার বা সংশ্লিষ্ট কোম্পানির মেডিকেল বিমা করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ জন্য বিমার ফি বাবদ আরও ১৩ হাজার টাকা দাবি করা হলে মুছা আলমের স্ত্রী ও ছেলের হাতে ওই টাকা দেন মহিদুল। তবে টাকা নেওয়ার পরও কোনো বিমা করা হয়নি এবং অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ তাঁর।
‎মহিদুল ইসলামের অভিযোগ, প্রায় ১১ মাস কাতারের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর ২০২৬ সালের ৩০ জানুয়ারি সিহাবকে বিমানে ঢাকায় পাঠানো হয়। বর্তমানে চিকিৎসা শেষে তিনি বাড়িতে রয়েছেন। দুর্ঘটনার কারণে তিনি স্বাভাবিক জীবনযাপন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ হারিয়েছেন। পরিবারের দাবি, বর্তমানে তাঁকে হুইলচেয়ারে বসে থাকতে হয় এবং চামচ দিয়ে খাওয়ানোসহ দৈনন্দিন কাজেও অন্যের সহায়তা প্রয়োজন হয়।
‎অভিযোগকারী আরও জানান, গত ২১ সেপ্টেম্বর মুছা আলম দেশে ফেরার পর তিনি টাকা ফেরত চান। কিন্তু টাকা ফেরত দিতে অস্বীকার করার পাশাপাশি তাঁকে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ ঘটনায় প্রতারণা, বিশ্বাসভঙ্গ ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ এনে প্রথমে গাবতলী মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ করেন মহিদুল ইসলাম। পরবর্তীতে বগুড়ার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের গাবতলী আমলি আদালতে মামলা দায়ের করেন।
‎মামলায় অভিযুক্তরা হলেন—মুছা আলম (৩৫), তাঁর স্ত্রী ওহেদা বেগম (৩০) এবং ছেলে রাব্বি (১৯)। তাঁদের সবার বাড়ি গাবতলী উপজেলার সোনারায় ইউনিয়নের খুপী মধ্যপাড়ায়।
‎এ ঘটনায় অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে গাবতলী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি জানান, অভিযোগটি তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপরে