প্রকাশিত : ২৮ অক্টোবর, ২০২৬ ০০:৩২

বগুড়ায় গৃহবধূকে ধর্ষণচেষ্টা ও কুৎসা রটনা, দুই যুবকের কারাদণ্ড

গাবতলী, বগুড়া সংবাদদাতাঃ
বগুড়ায় গৃহবধূকে ধর্ষণচেষ্টা ও কুৎসা রটনা, দুই যুবকের কারাদণ্ড

বগুড়ার গাবতলীতে এক গৃহবধূকে ধর্ষণচেষ্টা এবং তাঁর সম্পর্কে কুৎসা রটানোর অপরাধে দুই যুবককে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার বগুড়া নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এ এস এম তাসকিনুল হক এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন আব্দুল করিম, ২৩, ও সজিব পাইকার, ২২। আদালত আব্দুল করিমকে সাত বছর এবং সজিব পাইকারকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন। একই সঙ্গে তাঁদের প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে আরও তিন মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২২ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি বগুড়ার গাবতলী উপজেলার রামেশ্বরপুর ইউনিয়নের ওই গৃহবধূকে আসামিরা কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। ঘটনার দিন রাতে ওই নারী ঘরের বাইরে গেলে আসামিরা কৌশলে তাঁর শয়নকক্ষে ঢুকে খাটের নিচে লুকিয়ে থাকেন। পরে তিনি ঘরে ফিরে দরজা বন্ধ করলে আসামিরা ছুরি দেখিয়ে তাঁকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

এ সময় তাঁরা ছবি ও ভিডিও ধারণ করে পালিয়ে যান বলে অভিযোগে বলা হয়। পরে ওই গৃহবধূর সম্পর্কে এলাকায় কুৎসা রটানো এবং তাঁর কৃত্রিম ছবি তৈরি করে স্বামীর মুঠোফোনে পাঠানোর অভিযোগও আনা হয়।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী ২০২২ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি আদালতে মামলা করেন। দীর্ঘ সাক্ষ্যগ্রহণ ও বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় এ রায় দেন।

রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি মোজাম্মেল হক ও সহকারী সরকারি কৌঁসুলি আব্দুর রাজ্জাক মনি। আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী আব্দুল মন্নাফ ও জহুরুল ইসলাম।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মোজাম্মেল হক বলেন, ভুক্তভোগী নারীর স্বামী বিদেশে থাকার সুযোগ নিয়ে আসামিরা তাঁকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। পরে তাঁকে নিয়ে কুৎসা রটানোর চেষ্টা করেন। মামলার শুনানিতে এসব অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। রায় ঘোষণার পর আদালত পুলিশ দণ্ডপ্রাপ্ত দুজনকে নিজেদের হেফাজতে নেয়।

উপরে