কাউনিয়ায় জমি স্বল্পতায় রাস্তার ধারে হচ্ছে ঘাস চাষ
কাউনিয়া উপজেলায় গ্রাম গুলোতে গত কয়েক বছরে ছোট বড় মিলে প্রায় ৩ শতাধিক দুগ্ধ ও গরুর খামার গড়ে উঠায় গাভীর খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত বিদেশী নেপিয়ার ও পাংচং ঘাস চাষ বেশ জনপ্রিয় হয়ে ওঠছে। জমি স্বল্পতায় রাস্তার ধারে হচ্ছে ঘাস চাষ। সরেজমিনে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে খামারীদের কাছ থেকে জানাগেছে নেপিয়ার ও পাংচং ঘাস দুগ্ধ জাত গাভীকে খাওয়ালে বেশী পরিমানে দুধ পাওয়া যায়, এছাড়াও গাভীন গরু কে এ ঘাস খাওয়ালে বাছুর অন্ধত্ব থেকে রক্ষা পায় এবং স্বাস্থ্যবান হয়। এসব কারনে এসব ঘাসের জনপ্রিয়তা দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ মনোজিৎ কুমার সরকার জানান ন্যাশনাল এগ্রিকালচারাল টেকনোলজি প্রজেক্ট এর আওতায় ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় বর্তমানে প্রায় প্রতিটি গরুর খামারী এসব ঘাসের চাষ করছে।
পাঞ্জর ভাঙ্গা গাভী পালন দলের সভাপতি রেনু বালা, নিজপাড়া গ্রামের বিশ্বজিৎ ভুট্রু,খোপাতি গ্রামের গরুর খামারী আঃ হাকিম, আমতলী গ্রামের আইয়ুব আলী, হরিশ্বর গ্রামের হেলাল জানান তারা বেশ কয়েক বছর থেকে উপজেলা প্রাণী সম্পদ দপ্তরের পরামর্শে নেপিয়ারসহ বিদেশী ঘাস চাষ করে আসছে। নিজের জমির পাশাপাশি রাস্তার দু’ ধারে তারা এ ঘাস চাষ করছে। তাদের দেখাদেখি আনেকেই এখন এ ঘাস চাষ করে লাভবান হচ্ছে। ঘাসের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় অনেকেই আগ্রহী হয়ে ঘাস চাষে ঝুকে পড়ছে। নেপিয়ার ও পাংচং ঘাস চাষে লাভ হওয়ায় অনেকে আবার বানিজ্যিক ভাবে ধানের জমিতে ঘাস চাষ শুরু করছে।
পাঞ্জরভাঙ্গা গাভী পালন দলের সভানেত্রী জাতীয় স্বর্ণ পদক প্রাপ্ত দুগ্ধ খামারী রেনু বালা জানান,দুগ্ধ খামার প্রতিষ্ঠার পর থেকে গো-খাদ্যের সংকটে ছিল তারা, বর্তমানে নিজ জমি ও রাস্তার ধারে ঘাস চাষ করার পর থেকে এ সংকট অনেকটাই কেটে গেছে। কৃষকের বাড়তি আয়ের উৎস তৈরী সহ দুগ্ধ উৎপাদনে অগ্রনী ভুমিকা রাখছে ঘাস। উপজেলা প্রণী সম্পদ বিভাগ জানায় রংপুর বিভাগের মধ্যে কাউনিয়া ইতো মধ্যে দুগ্ধ উৎপাদনে প্রথম স্থানে রয়েছে। এ উপজেলায় প্রায় ৭০ বিঘা জমিতে নেপিয়ার ঘাস চাষ হয়েছে। দুগ্ধ উৎপাদনের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে সরকারী ভাবে এ ঘাস চাষে খামারীদের প্রনদনা প্রদানসহ ব্যাংক ঋণ প্রদানের ব্যাবস্থা করলে চাষিরা আরও উৎসায়ীত হবে।
