ভূমিমন্ত্রী হলেন মিনু, উচ্ছ্বসিত রাজশাহীবাসী
রাজশাহী-২ (সদর) আসন থেকে নির্বাচিত হয়ে ভূমি মন্ত্রণালয়ের পূর্ণ মন্ত্রী হয়েছেন মিজানুর রহমান মিনু। তিনি মন্ত্রী হওয়ায় রাজশাহীতে ব্যাপক উচ্ছ্বাস দেখা গেছে। দলমত নির্বিশেষে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ আনন্দ প্রকাশ করেন। শপথ গ্রহণের পর নগরীর বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় মিষ্টি বিতরণ করা হয়।
রাজশাহী-২ আসন মূলত রাজশাহী সিটি করপোরেশন এলাকা নিয়ে গঠিত। এর আগে ১৯৭৯ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান-এর মন্ত্রিসভায় এ আসন থেকে পূর্ণ মন্ত্রী হয়েছিলেন এমরান আলী সরকার, যিনি ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন। দীর্ঘ সময় পর আবারও এ আসন থেকে পূর্ণ মন্ত্রী হলেন মিজানুর রহমান মিনু।
তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীরকে ২৮ হাজার ১৭৬ ভোটে পরাজিত করেন। এর আগে তিনি অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।
এর আগে তিনি ১৯৯১ থেকে ১৯৯৩ সাল পর্যন্ত এবং ১৯৯৪ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র ছিলেন।
ছাত্রদলের রাজনীতি থেকে উঠে আসা মিজানুর রহমান মিনু বিএনপির বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি ছিলেন। এছাড়াও কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক, যুগ্মমহাসচিব পদে দায়িত্ব পালন করেছেন।
মিজানুর রহমান মিনু পূর্ণ মন্ত্রী হওয়ায় উচ্ছ্বসিত রাজশাহীর মানুষ। দলমত নির্বিশেষে রাজশাহীর সকল শ্রেণি পেশার মানুষ উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। তিনি মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর রাজশাহীর পাড়া-মহল্লায় শুরু হয় মিষ্টি বিতরণ।
রাজশাহী সিটি করপোরেশন নিয়ে গঠিত রাজশাহী-২ আসন। এর আগে ১৯৭৯ সালে জিয়াউর রহমানের মন্ত্রিসভায় এই আসন থেকে পূর্ণ মন্ত্রী হয়েছিলেন এমরান আলী সরকার। তিনি ছিলেন ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী। এরপর পূর্ণ মন্ত্রী হলেন মিজানুর রহমান মিনু।
বিএনপির এই বর্ষীয়ান নেতা বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তিনি মাত্র ৩২ বছর বয়সে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) মেয়র হন। টানা ১৭ বছর মেয়র ছিলেন। মেয়র থাকা অবস্থায় ২০০১ সালে তিনি রাজশাহী সদর আসনের সংসদ সদস্যও হন।
মন্ত্রী হওয়ার পর মিজানুর রহমান মিনু বলেছেন, ‘মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব তো বটেই, রাজশাহীর জন্যও নিরলসভাবে কাজ করে যাব। আমি এখন আরও ভালোভাবে রাজশাহীর জন্য কাজ করতে পারব।’
রাজশাহী জেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক শফিকুল আলম সমাপ্ত বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রিয় নেতা মিজানুর রহমান মিনু ভূমি মন্ত্রী হচ্ছেন। এতে আমরা সবাই খুশি। তিনি এমন একজন মানুষ, যার কাছে যে কোনো মানুষ সহজেই যেতে পারেন। তিনি সবার কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং সাধ্যমত সমস্যার সমাধান করার চেষ্টা করেন।’
রাজশাহী মহানগর যুবদলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক শরিফুল ইসলাম জনি বলেন, ‘মিনু ভাই আধুনিক রাজশাহীর রূপকার। তিনি নিজের সন্তানের মতো করে এই শহরকে গড়ে তুলেছেন। এই দলের জন্য তিনি নিজের সারাটা জীবন উজাড় করে দিয়েছেন। তাকে মূল্যায়ন করা হয়েছে। এ জন্য আমরা রাজশাহীবাসীর পক্ষ থেকে তারেক রহমানকে কৃতজ্ঞতা জানাই।’
রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক জামাত খান বলেন, ‘আমি অত্যন্ত খুশি হয়েছি এ জন্য যে দীর্ঘ দিন পর রাজশাহীতে আমরা পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রী পেয়েছি। তিনি এবার আমাদের এই কৃষিভিত্তিক অঞ্চলটাকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে পারবেন বলে বিশ্বাস করি।’
