শেরপুরে ৩ দিন ধরে গৃহবন্দী, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চায় অসহায় পরিবার
জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে নিজ বসতঘরেই তিন দিন ধরে গৃহবন্দী হয়ে পড়েছেন এক অসহায় ব্যক্তি ও তার পরিবার। বগুড়ার শেরপুর উপজেলার গাড়িদহ ইউনিয়নের জয়নগর উত্তরপাড়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটেছে। ভুক্তভোগী মোঃ আজমল হোসেন (৪২) শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) শেরপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী আজমল হোসেনের আপন ভাই মোঃ আমজাদ হোসেন (৫০) ও তার পরিবারের সদস্যরা প্রায় ৩০ বছর পূর্বে মৌখিকভাবে রেওয়াজ বদল করা ২ শতাংশ জমি নিয়ে এখন নিজেদের আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা চালাচ্ছে। বিবাদীগণ হলেন- ১নং মোঃ আমজাদ হোসেন, ২নং মোঃ রানা (৩৫), ৩নং মোঃ আবু বক্কর (৩০) এবং ৪নং মোছাঃ আলেফা বেগম (৪৭)। এরা সকলেই আজমল হোসেনের নিজ আত্মীয়-স্বজন। আমজাদ হোসেন তার ভাই এবং অন্যান্যরা তার ভাতিজা ও ভাবী।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, বিবাদীগণ সম্প্রতি আজমল হোসেনের বসত বাড়িতে প্রবেশ করে তার বসত ঘর, রান্না ঘর ও গোয়াল ঘর নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয়। যার ফলে আজমল হোসেন ও তার পরিবারের সদস্যরা গত তিন দিন ধরে নিজ ঘর থেকে বের হতে পারছেন না। গত ২৭ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টার দিকে বিবাদীগণ তার বসত ঘরের উত্তর পার্শ্বে নিজেদের দখলকৃত জমিতে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ শুরু করে। এতে করে পরিবারটির চলাচলের পথ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।
একই দিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আজমল হোসেন তাদের বাঁধা দিতে গেলে উভয় পক্ষের মধ্যে তুমুল উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। বিবাদীগণ তাকে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি প্রদর্শন করে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরিস্থিতি যে কোনো মুহূর্তে খুন-জখমের ঘটনায় রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে প্রতিবেশী মোছাঃ আরজিনা বেগম (২৫), মোছাঃ আয়েশা বেগম (২৪) ও আলহাজ্ব মকবুল (৬৫) জানান, ঘটনাটি তারা প্রত্যক্ষ করেছেন এবং স্থানীয় অনেকেই এ বিষয়ে অবগত আছেন।
ভুক্তভোগী আজমল হোসেন জানান, "আমার নিজ বাড়িতে আমি এখন পরের মতো। তিন দিন ধরে ঘরে বন্দী হয়ে আছি। বাইরে বের হওয়ার উপায় নেই। বিবাদীগণ যে কোনো সময় আমাদের ওপর হামলা চালাতে পারে। আমি প্রশাসনের কাছে জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছি।"
অভিযুক্ত আমজাদ হোসেন বলেন, আমার জায়গায় বেরাটি ভেঙ্গে গিয়েছিল তাই নতুন করে দিয়েছি। আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা ভিত্তিহীন।
এ বিষয়ে শেরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইব্রাহিম আলী বলেন, অভিযোগটি পাওয়া গেছে এবং তদন্ত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
