প্রকাশিত : ৭ মে, ২০২৬ ০১:১৬

এতিম মাদ্রাসাছাত্রী ধর্ষণ: দারোয়ানকে দোষী সাব্যস্ত, রায়ে সন্তুষ্ট ভুক্তভোগী পরিবার

নিজস্ব প্রতিবেদক
এতিম মাদ্রাসাছাত্রী ধর্ষণ: দারোয়ানকে দোষী সাব্যস্ত, রায়ে সন্তুষ্ট ভুক্তভোগী পরিবার

কক্সবাজারে একটি মাদ্রাসার এতিমখানার এক শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় অভিযুক্ত দারোয়ান মহিউদ্দিনকে দোষী সাব্যস্ত করে রায় দিয়েছেন আদালত। রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপক্ষ ও ভুক্তভোগীর পরিবার।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ভুক্তভোগী শিশুটি দুই বছর বয়স থেকে তার নানি ও খালার কাছে লালিত-পালিত হচ্ছিল। পারিবারিক অভাবের কারণে তাকে একটি মাদ্রাসার এতিমখানায় ভর্তি করা হয়। ২০২১ সালের ১৬ মার্চ সকালে নাস্তার প্রলোভন দেখিয়ে শিশুটিকে নিজের কক্ষে নিয়ে ধর্ষণ করেন অভিযুক্ত মহিউদ্দিন। এতে শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়লে বিষয়টি এতিমখানার দায়িত্বে থাকা এক শিক্ষকের স্ত্রীকে জানায়। তবে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গোপন রাখে এবং পরিবারকে অবহিত করেনি।

পরে ২০ মার্চ শিশুটির অভিভাবক মাদ্রাসায় গেলে সে কান্নায় ভেঙে পড়ে এবং পুরো ঘটনা জানায়। এ সময় নানি শিশুটিকে নিয়ে যেতে চাইলে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ বাধা দেয়। পরে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের পরামর্শে ২২ মার্চ কক্সবাজার সদর থানা-এ মামলা দায়ের করা হয়। পুলিশ সেদিনই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ছলিমুল মোস্তফা জানান, তদন্ত শেষে ছয় মাসের মাথায় অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। ২০২২ সালের ১২ সেপ্টেম্বর অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার কার্যক্রম শুরু হয়। সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত রায় ঘোষণা করেন।

রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে অনুপস্থিত ছিলেন। জামিনে মুক্ত হওয়ার পর থেকেই তিনি পলাতক রয়েছেন। তার গ্রেপ্তারের দিন থেকে সাজা কার্যকর হবে বলে আদালত জানিয়েছেন।

রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপক্ষ ও ভুক্তভোগী পরিবার। তবে আসামিপক্ষের আইনজীবী হরি সাধন পাল জানিয়েছেন, তারা এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করবেন।

এদিকে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মুহাম্মদ আমান উল্লাহ বলেন, আদালতের রায়ের অনুলিপি হাতে পাওয়ার পর বিধি অনুযায়ী অভিযুক্তের বিরুদ্ধে স্থায়ী বরখাস্তসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপরে