প্রকাশিত : ৬ জুন, ২০২৬ ০০:০৮

পুলিশ বাবা করলেন অপহরণের মামলা, লাইভে এসে মিথ্যা দাবি মেয়ের

নিজস্ব প্রতিবেদক
পুলিশ বাবা করলেন অপহরণের মামলা, লাইভে এসে মিথ্যা দাবি মেয়ের

বগুড়ার আদমদীঘি থানায় কর্মরত এক পুলিশ কনস্টেবলের ১৭ বছর বয়সী মেয়ের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাকে ঘিরে সৃষ্টি হয়েছে নানা আলোচনা ও ধোঁয়াশা। মেয়ের বাবার দাবি, তার নাবালিকা মেয়েকে অপহরণ করা হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট কিশোরী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইভে এসে দাবি করেছেন, তিনি স্বেচ্ছায় প্রেমিককে বিয়ে করে সংসার করছেন এবং অপহরণের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা।

নিখোঁজ কিশোরীর নাম তসনিয়া রানা তামান্না (১৭)। তার বাবা মো. রানা মাসুদ আদমদীঘি থানায় কর্মরত একজন পুলিশ কনস্টেবল। তিনি প্রায় ২২ বছর ধরে পুলিশ বাহিনীতে দায়িত্ব পালন করছেন।

জানা গেছে, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি সকালে প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার পথে প্রথমবারের মতো নিখোঁজ হন তামান্না। এ ঘটনায় তার বাবা জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার সোনাপুর গ্রামের শহিদ হোসেন (১৮)সহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে অপহরণের মামলা করেন।

পরে পুলিশ তামান্নাকে উদ্ধার করে আদালতে হাজির করলে তিনি জবানবন্দিতে জানান, শহিদ হোসেনের সঙ্গে তার বিয়ে হয়েছে। তবে বয়স ১৮ বছরের কম হওয়ায় এবং ডাক্তারি পরীক্ষার প্রতিবেদনের ভিত্তিতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গত ৩০ এপ্রিল আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

আদালতের মাধ্যমে বাবার জিম্মায় ফেরার পরদিন, অর্থাৎ ১ মে সকালে তামান্না আবারও শহিদ হোসেনের সঙ্গে চলে যান। এ ঘটনায় রানা মাসুদ আদালতে অভিযোগ দায়ের করলে ৭ মে আদমদীঘি থানায় নতুন একটি মামলা রুজু করা হয়। বর্তমানে মামলাটি বগুড়া জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) তদন্ত করছে।

এদিকে দ্বিতীয়বার নিখোঁজ হওয়ার পর তামান্না নিজের ফেসবুক আইডি থেকে লাইভে এসে বলেন, “আমার নামে অপহরণের যে মামলা দেওয়া হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। আমার স্বামীর সঙ্গে চার বছরের সম্পর্ক। পরিবার এই সম্পর্ক মেনে না নেওয়ায় অপহরণের অভিযোগ আনা হচ্ছে।”

অন্যদিকে কনস্টেবল রানা মাসুদের অভিযোগ, মেয়ের নিখোঁজ হওয়ার পর মামলা করতে গেলে আদমদীঘি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তার কাছে ঘুষ দাবি করেন। পরে তিনি বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করলে সাধারণ ডায়েরি এবং পরবর্তীতে মামলা গ্রহণ করা হয়।

মেয়ে এখনও উদ্ধার না হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, “আমি একজন পুলিশ সদস্য হয়েও বিচার পাচ্ছি না। সাধারণ মানুষ কীভাবে বিচার পাবে?” মেয়েকে উদ্ধারের দাবিতে তিনি ও তার স্ত্রী ঢাকায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অবস্থান কর্মসূচিও পালন করছেন বলে জানান।

এ ছাড়া তিনি অভিযোগ করেন, জয়পুরহাটের একটি থানার কর্মকর্তা তাকে মেয়েকে ফিরিয়ে দেওয়ার বিনিময়ে মামলা না করার শর্তে স্বাক্ষর দিতে বলেছিলেন, যা তিনি প্রত্যাখ্যান করেন।

তবে ঘুষ দাবির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আদমদীঘি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুজ্জামান মিয়া। তিনি বলেন, “ঘুষ দাবির অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। পুলিশের সদস্যের মেয়ে মানে আমাদেরও মেয়ে। যথাসময়ে মামলা গ্রহণ করা হয়েছে। এরপরও তিনি বিভিন্ন স্থানে মিথ্যা অভিযোগ করে বেড়াচ্ছেন।”

ঘটনার প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনে তদন্ত চলমান রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

উপরে