প্রকাশিত : ২ জুলাই, ২০২৬ ২০:০০
বগুড়ায় বদলির দেড় মাস পরও বহাল শজিমেক হাসপাতালের প্রধান সহকারী কামরুজ্জামান
নেপথ্যে প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের অদৃশ্য হাত?
ষ্টাফ রিপোর্টার
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বদলির আদেশ জারির প্রায় দেড় মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো আগের কর্মস্থলেই দায়িত্ব পালন করছেন বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালের প্রধান সহকারী এস এম কামরুজ্জামান। অন্যদিকে একই আদেশে ওই পদে পদায়ন পাওয়া কর্মকর্তা শাহিন ইসলাম এখনো নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করতে পারেননি। এ ঘটনায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রশাসনিক আদেশ বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ১৪ মে ২০২৬ তারিখের এক প্রজ্ঞাপনে (স্মারক নম্বর: স্বাঃঅধিঃ/প্রশা-৩/৩য় শ্রেণী-৩৯/২৬/১৮-১৯/১(১৩)) শজিমেক হাসপাতালের প্রধান সহকারী এস এম কামরুজ্জামানকে ধুনট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বদলি করা হয়। একই আদেশে উচ্চমান সহকারী শাহিন ইসলামকে শজিমেক হাসপাতালের প্রধান সহকারী পদে পদায়ন দেওয়া হয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. জালাল উদ্দিন মোহাম্মদ রুমী স্বাক্ষরিত ওই আদেশে বলা হয়, সংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের তিন কর্মদিবসের মধ্যে ছাড়পত্র গ্রহণ করতে হবে। অন্যথায় চতুর্থ কর্মদিবস থেকে তারা স্বয়ংক্রিয়ভাবে অব্যাহতি প্রাপ্ত বলে গণ্য হবেন।
তবে অনুসন্ধানে জানা গেছে, আদেশ জারির প্রায় দেড় মাস পরও এস এম কামরুজ্জামান শজিমেক হাসপাতালেই দায়িত্ব পালন করছেন। হাসপাতালের একাধিক সূত্রের দাবি, তাকে ওই পদে বহাল রাখতে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি হাসপাতালের কয়েকজন কর্মকর্তা তার পক্ষে তদবির চালিয়ে যাচ্ছেন। এমনকি এ বিষয়ে রাজনৈতিক পর্যায়েও যোগাযোগের চেষ্টা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
হাসপাতালের একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীর প্রশ্ন, সরকারি বদলির আদেশ থাকা এবং বিভিন্ন সময়ে একাধিক অভিযোগ ওঠার পরও কী কারণে তাকে এখনো ওই পদে বহাল রাখা হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাসপাতালের একাধিক কর্মচারী জানান, এস এম কামরুজ্জামানের বিরুদ্ধে এর আগেও আউটসোর্সিং নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়ম, অর্থের বিনিময়ে নিয়োগে প্রভাব বিস্তার এবং একটি নির্দিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। গত ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে তার ছবিসহ সেই কথিত সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে শজিমেক হাসপাতালের সামনে মানববন্ধনও অনুষ্ঠিত হয়। জানা যায়, প্রধান সহকারী হিসেবে হাসপাতালের বিভিন্ন প্রশাসনিক কার্যক্রমে তার ব্যাপক প্রভাব রয়েছে। এছাড়া পছন্দের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে বিভিন্ন কাজ পাইয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রেও তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের স্পষ্ট নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও বদলির আদেশ বাস্তবায়নে বিলম্বের কারণ, অটো রিলিজের বিধান কার্যকর না হওয়ার কারণ এবং তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পরও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত ঝুলে থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে শজিমেক হাসপাতালের পরিচালক এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি। পরে তার পক্ষে হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. মনজুর মোর্শেদ বলেন, বদলির আদেশের পর কিছু প্রশাসনিক জটিলতার কারণে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। তদন্ত কমিটি ইতোমধ্যে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। প্রতিবেদনটি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কার্যালয়ে পাঠিয়ে পরবর্তী করণীয় বিষয়ে নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে এস এম কামরুজ্জামানের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। এছাড়া হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকেও তার বক্তব্য নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়নি।
