প্রকাশিত : ২৭ জুলাই, ২০২৬ ২১:২৮

সাক্ষীদের উপস্থিতি বাড়ানো গেলে মামলা নিষ্পত্তির হার বাড়বে- বগুড়া জেলা ও দায়রা জজ

সঞ্জু রায়:
সাক্ষীদের উপস্থিতি বাড়ানো গেলে মামলা
নিষ্পত্তির হার বাড়বে- বগুড়া জেলা ও দায়রা জজ
আদালতে সাক্ষীদের উপস্থিতি বাড়ানো গেলে মাদক মামলাসহ সকল বিলম্বিত মামলাগুলো নিষ্পত্তির হার বাড়বে। এক্ষেত্রে সাক্ষীদের সুরক্ষা নিশ্চিতের পাশাপাশি তাদের যাতায়াত ভাতা প্রদান করা গেলে আদালতে সাক্ষীদের উপস্থিতি আরও বাড়বে বলে মন্তব্য করেছেন বগুড়ার ভারপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ কৌশিক আহাম্মদ খোন্দকার। তিনি বলেন রাষ্ট্রের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের মাধ্যমে বগুড়াকে সুন্দর ও নিরাপদ হিসেবে গড়ে তুলতে জেলায় অন্তত ৫টি আলাদা মাদক ট্রাইব্যুনাল গঠনের উদ্যোগ নিতে হবে। প্রসিকিউশন বিভাগের আয়োজনে সোমবার বিকেলে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত 'মাদক মামলার কার্যকর নিষ্পত্তি: প্রতিবন্ধকতা ও করণীয়' শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। বিচার বিভাগ, জেলা পুলিশ ও পাবলিক প্রসিকিউটেরদের সমন্বয়ে এই সেমিনারে ভারপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ কৌশিক আহাম্মদ আরো বলেন, মাদক মামলার দ্রুত নিষ্পত্তিতে পুলিশ ও মাদকবিরোধী অভিযানের সাথে সংশ্লিষ্টদের আন্তরিক সহযোগিতা প্রয়োজন। এক্ষেত্রে ঘটনাস্থলে অভিযুক্ত ব্যক্তির স্বাক্ষরসহ জব্দ তালিকা প্রণয়ন, উদ্ধারকৃত মাদক সিলগালা করার পাশাপাশি স্বাক্ষী বানানোর ক্ষেত্রে গণ্যমান্য ব্যক্তি পাওয়া না গেলেও সেটি আলাদা করে নোট দিতে হবে। প্রতিটি ঘটনায় অবশ্যই পুলিশ সদস্যকে সাক্ষী তালিকায় রাখতে হবে। একই সাথে অভিযানের ছবিও আদালতে প্রেরণ করার আহ্বান জানান তিনি। এছাড়াও আদালতে মিথ্যা সাক্ষী প্রদানকারীদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলেন তিনি। জেলা জজ আরো বলেন, মাদকের বিস্তার রুখতে হলে সকলকেই নিজ অবস্থান থেকে আরও দায়িত্বশীল ও সচেতন হতে হবে। সোর্সমানির নামে সোর্সদেরকে টাকা প্রদান করতে হবে এক্ষেত্রে অনেকের বিরুদ্ধেই অভিযোগ আসে সোর্সমানি হিসেবে উদ্ধারকৃত মাদকের একটি অংশ প্রদান করার বিষয়ে যা অপরাধ। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি। এছাড়াও যারা মাদকের অন্ধকার জগৎ থেকে বেরিয়ে এসে নতুন জীবন শুরু করতে চায় তাদেরকে নতুন করে কোন মামলায় হয়রানি না করে ভাল হওয়ার সহযোগিতা করতে বলেন এই কর্মকর্তা। তবে অপরাধীদের কোন ছাড় নেই বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি। সেমিনারে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর আব্দুল বাসেদ বলেন, আইনের ফাঁকফোঁকড় দিয়ে দাগি আসামীরা বেরিয়ে যাচ্ছে যা প্রতিরোধ করতে হবে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই মামলার স্বাক্ষীরা আদালতে আসতে চাননা যে কারণে বিচার বিলম্বিত হয়। এক্ষেত্রে পুলিশের স্বাক্ষীকে প্রাধান্য দিয়েও সাজা প্রদান করতে হবে। তিনি বলেন, রাজশাহী বিভাগের মাঝে বগুড়াতে মাদক মামলায় আসামীদের সাজার হার সবচেয়ে কম যা গত মে মাসে মাত্র ১৮.৬৮ শতাংশ এবং জুন মাসে ২১.৫৪ শতাংশ। প্রধানমন্ত্রী মাদকমুক্ত যে বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখছেন তা বিচার বিভাগের সোচ্চার ভূমিকা ছাড়া কখনোই গড়া সম্ভব নয়। মাদকের বিস্তার রুখতে চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীদের যথাযথ শাস্তি নিশ্চিতে তিনি আইনজীবীদেরকেও দায়িত্বশীল ভূমিকার অনুরোধ জানান। সেমিনারে আরো বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ যথাক্রমে গোলাম মাহফুজ ও আফাজ উদ্দিন, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল মামুন, জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক জিল্লুর রহমান, অ্যাডভোকেটস বার সমিতি বগুড়ার সভাপতি শেখ রেজাউর রহমান মিন্টু, সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলামসহ জেলার সকল থানার অফিসার ইনচার্জ, কোর্ট ইন্সপেক্টরসহ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটররা। বক্তারা মাদক মামলার কার্যকর নিষ্পত্তির লক্ষ্যে ব্যতিক্রমী এমন সমন্বিত আয়োজনের জন্য প্রসিকিউশন বিভাগকে ধন্যবাদ জানান।
উপরে