প্রকাশিত : ২১ আগস্ট, ২০২৬ ২৩:৩৫
বগুড়ায় স্নিগ্ধা আবাসিকে জলাশয় ভরাট: বন্ধের নোটিশ উপেক্ষা করে ১০ তলা ভবন নির্মাণের অভিযোগ
নিজস্ব প্রতিবেদক
বগুড়া শহরের স্নিগ্ধা আবাসিক এলাকায় অনুমোদিত নকশায় জলাশয় ও বিনোদন এলাকার জন্য নির্ধারিত জায়গা ভরাট করে প্লট তৈরি এবং সেখানে রাস্তার সীমানা না মেনে ১০ তলা ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। নির্মাণকাজ বন্ধে বগুড়া সিটি করপোরেশনের নোটিশ দেওয়ার পরও কাজ চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
এ ঘটনায় সিটি করপোরেশনের প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়ে দ্রুত নির্মাণকাজ বন্ধ, সরেজমিন তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, স্নিগ্ধা আবাসিক এলাকা প্রতিষ্ঠার সময় বগুড়া পৌরসভা অনুমোদিত নকশায় একটি বড় জায়গা জলাশয় ও বিনোদন এলাকা হিসেবে রাখা হয়েছিল। দীর্ঘদিন ধরে ওই জলাশয়টি আবাসিক এলাকার পানি নিষ্কাশন ও জরুরি অগ্নিনিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছিল। তবে বিগত সরকারের শেষ সময়ে জলাশয়টি ভরাট করে সেখানে প্লট তৈরি ও বিক্রির অভিযোগ ওঠে। বর্তমানে ভরাট করা ওই জায়গাতেই নির্মাণ করা হচ্ছে ১০ তলা ভবন।
অভিযোগকারীদের দাবি, নির্মাণাধীন ভবনের ক্ষেত্রে রাস্তার নির্ধারিত সীমানা ও ভবন নির্মাণ বিধিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে না। এমনকি দক্ষিণ পাশের পূর্বনির্মিত রাস্তার অংশ ভেঙে ভবনের কলাম নির্মাণ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। এতে ভবিষ্যতে জরুরি প্রয়োজনে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি প্রবেশে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
সিটি করপোরেশনে দেওয়া অভিযোগপত্রে বাসিন্দারা উল্লেখ করেন, তারা নিশিন্দারা মৌজার ১ নম্বর ওয়ার্ডের স্নিগ্ধা আবাসিক এলাকার ১ নম্বর রোডের লেকভিউ, মোহনা ও আশপাশের ভবনের স্থায়ী বাসিন্দা। তাদের অভিযোগ, আবাসিক এলাকার বড় জলাশয়টি ভরাট হয়ে যাওয়ায় একদিকে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত হয়েছে, অন্যদিকে অগ্নিনির্বাপণের ক্ষেত্রে ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
অভিযোগপত্র অনুযায়ী, বিষয়টি নিয়ে গত ৯ আগস্ট সিটি করপোরেশনে আবেদন করা হয়। পরে উভয় পক্ষকে শুনানির জন্য আগামী ৩১ আগস্ট তারিখ নির্ধারণ করে নোটিশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগকারীরা জানান।
তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, নোটিশ পাওয়ার পর দুই-তিন দিন নির্মাণকাজ বন্ধ থাকলেও পরে সিটি করপোরেশনের একজন পরিদর্শক সরেজমিন পরিদর্শন করার পর আবারও পুরোদমে কাজ শুরু হয়।
এ অবস্থায় গত ১৯ আগস্ট সিটি করপোরেশনের প্রশাসকের কাছে দেওয়া আবেদনে বাসিন্দারা কাজ বন্ধের নির্দেশ অমান্য করে নির্মাণকাজ চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ তুলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি নির্মাণস্থলে গার্ড প্রটেকশনের আবেদন করেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা আরও বলেন, অনুমোদিত নকশায় জলাশয় ও বিনোদন এলাকার জন্য নির্ধারিত জায়গা কীভাবে ভরাট করে প্লটে রূপান্তর করা হলো, সেটি তদন্তের দাবি রাখে। একই সঙ্গে ওই জায়গায় বহুতল ভবন নির্মাণের অনুমোদন, পরিবেশগত ছাড়পত্র এবং ভবন নির্মাণ বিধিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না—তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
তাদের ভাষ্য, আবাসিক এলাকার জলাশয় শুধু সৌন্দর্য বা বিনোদনের জন্য নয়; বৃষ্টির পানি নিষ্কাশন এবং অগ্নিনির্বাপণের ক্ষেত্রেও এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। ফলে অনুমোদিত নকশায় থাকা জলাশয় ভরাট করে বহুতল ভবন নির্মাণ করা হয়ে থাকলে তা জননিরাপত্তা ও পরিবেশ—দুই দিক থেকেই উদ্বেগের বিষয়।
অভিযোগকারীদের আবেদনে সংশ্লিষ্ট নির্মাণকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি রাস্তার সীমানা-সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনের দাবি জানানো হয়েছে।
তবে জলাশয় ভরাট, অনুমোদিত নকশা পরিবর্তন, রাস্তার অংশ দখল কিংবা ভবন নির্মাণ বিধিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নির্মাণকারীদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। একইভাবে সিটি করপোরেশন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রশ্ন—অনুমোদিত নকশায় জলাশয় হিসেবে চিহ্নিত জায়গা ভরাট হয়ে থাকলে সেটি কীভাবে প্লটে পরিণত হলো এবং সেখানে বহুতল ভবন নির্মাণের অনুমোদন কীভাবে দেওয়া হলো? তাদের দাবি, দ্রুত যৌথ সরেজমিন তদন্তের মাধ্যমে জলাশয় ভরাট, প্লট তৈরি ও বিক্রি, ভবন নির্মাণের অনুমোদন, রাস্তার সীমানা এবং নির্মাণ বিধিমালা অনুসরণের বিষয়গুলো খতিয়ে দেখে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
