পলাশবাড়ী মহিলা ডিগ্রি কলেজে শিক্ষক-কর্মচারীদের সংঘর্ষ, আহত ৩
গাইবান্ধার পলাশবাড়ী মহিলা ডিগ্রি কলেজে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে কলেজের ভারপ্রাপ্ত হিসাবরক্ষকসহ তিনজন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় উভয় পক্ষ থেকে থানায় পৃথক লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
বুধবার ১৯ আগস্ট কলেজ ক্যাম্পাসে এসব ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বুধবার দুপুর আড়াইটার দিকে এইচএসসি ভোকেশনাল শাখার পরীক্ষা চলাকালে কলেজের পিয়ন মো. আকবর আলী বকু মিয়ার সঙ্গে অপর পিয়ন মো. শাহারুল মিয়ার বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে শাহারুল বকু মিয়ার ওপর চড়াও হয়ে তাকে মারধর করেন। খবর পেয়ে বকু মিয়ার বড় ভাই মো. মুনছুর আলী ৬৫ এগিয়ে এলে তাকেও মারধর করা হয়।
পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আহত দুই ভাইকে উদ্ধার করে পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় মুনছুর আলী বাদী হয়ে শাহারুলকে আসামি করে থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।
অন্যদিকে, একই দিন বিকেল ৩টার দিকে কলেজের ল্যাব অ্যাসিস্ট্যান্ট ও ভারপ্রাপ্ত হিসাবরক্ষক সাহারুল ইসলাম ৪৫কে মারধরের অভিযোগে থানায় পৃথক অভিযোগ দেওয়া হয়।
অভিযোগে বলা হয়, কলেজের গোপনীয় তথ্য পাচারের প্রমাণ পাওয়ায় অধ্যক্ষ মো. মোস্তাফিজুর রহমান পিয়ন মো. শরিফুল ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করেন। এই বরখাস্তের ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের লোকজন সংঘবদ্ধ হয়ে সাহারুল ইসলামকে মারধর করেন।
এ সময় তার কাছে থাকা ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং পরীক্ষার কেন্দ্র ফি বাবদ ৭০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
পরে সহকর্মীরা সাহারুল ইসলামকে উদ্ধার করে পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। তার পক্ষে ছেলে নাইমুর রহমান লিমন বাদী হয়ে একজন সহকারী অধ্যাপক ও একজন পিয়নসহ চারজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করে থানায় অভিযোগ দিয়েছেন।
দুটি ঘটনার বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে থানা সূত্রে জানা গেছে। বর্তমানে আহতরা পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
