প্রকাশিত : ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২১:০৮

২ হাজার আইফোন ও ৪০ ল্যাপটপ সহ ৬ চীনা নাগরিক গ্রেপ্তার

চাঁদনী ডিজিটাল ডেস্ক রিপোর্টঃ
২ হাজার আইফোন ও ৪০ ল্যাপটপ সহ ৬ চীনা নাগরিক গ্রেপ্তার

কক্সবাজারের রামুতে ১ হাজার ৯৩৮টি আইফোন, ল্যাপটপ, ডেস্কটপ কম্পিউটারসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম জব্দ করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় চীনের ছয় নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে রামু থানায় সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা হয়েছে। পরে আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।

পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা একটি আন্তর্জাতিক অনলাইন প্রতারণা চক্রের সঙ্গে জড়িত বলে প্রাথমিক তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে। দীর্ঘদিন গোয়েন্দা নজরদারির পর রামুর মেরিন ড্রাইভসংলগ্ন কয়েকটি হোটেলে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় ১ হাজার ৯৩৮টি আইফোন, প্রায় ৪০টি ল্যাপটপ, ডেস্কটপ কম্পিউটারসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম জব্দ করা হয়।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) মো. অহিদুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, গোয়েন্দা নজরদারি ও দীর্ঘ তদন্তের পর তাদের আটক করা হয়। প্রথমে তারা বিভিন্ন প্রকল্পে কাজ করার কথা জানিয়েছিল। পরে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষকে জানানো হলে ঢাকাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের বিশেষায়িত তদন্ত দল বিষয়টি খতিয়ে দেখে।

পুলিশের ভাষ্য, চীনা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের পর গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আন্তর্জাতিক অনলাইন প্রতারণা চক্রের সদস্য হিসেবে শনাক্ত করা হয়। সংশ্লিষ্ট দূতাবাস ও কর্তৃপক্ষের ক্লিয়ারেন্স এবং ঊর্ধ্বতন পর্যায়ের পর্যালোচনার পর তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অহিদুর রহমান বলেন, প্রাথমিক তদন্তে চক্রটির স্টারলিংক প্রযুক্তি ব্যবহার করে অনলাইন শেয়ারবাজার, জুয়া ও বিভিন্ন কারেন্সি-সংক্রান্ত প্রতারণায় জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের পাসপোর্ট ব্লক করে দেওয়া হয়েছিল। এ কারণে তারা দেশত্যাগ করতে পারেনি। ইমিগ্রেশনসহ বিভিন্ন পয়েন্টে তাদের বিষয়ে সতর্কতা জারি থাকায় দেশ ছাড়ার চেষ্টা করলেও তাদের আটকে দেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, রামুর মেরিন ড্রাইভের কয়েকটি হোটেলে কয়েক মাস ধরে বিপুলসংখ্যক চীনা ও তাইওয়ানের নাগরিক অবস্থান করছেন। তাদের মধ্যে কেউ কেউ অনলাইনভিত্তিক কর্মকাণ্ডে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। ব্লু ওশ্যানসহ কয়েকটি হোটেলে তাদের অবস্থানের তথ্য পাওয়া গেছে বলেও সূত্রটি জানিয়েছে।

পুলিশ বলছে, জব্দ করা আইফোন, ল্যাপটপ ও অন্যান্য ডিভাইস পরীক্ষা করে এগুলো কীভাবে ব্যবহার করা হতো, তা জানার চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে ফজলুল হক বলেন, রামু থানায় করা মামলার তদন্ত চলছে। পাশাপাশি সিআইডিসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কয়েকটি ইউনিট বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে। জব্দ করা ডিভাইস পরীক্ষা করে চক্রটির সঙ্গে আর কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

উপরে