প্রকাশিত : ১ অক্টোবর, ২০২৬ ০১:৫২

“যৌতুকের দাবিতে গৃহবধূর শরীরে দাহ্য পদার্থ নিক্ষেপের অভিযোগ”

মো. মোয়ান্নাফ হোসেন শিমুল, জয়পুরহাট
“যৌতুকের দাবিতে গৃহবধূর শরীরে দাহ্য পদার্থ নিক্ষেপের অভিযোগ”

জয়পুরহাটে যৌতুকের দাবিতে সাবেকুন নাহার (২৫) নামে এক গৃহবধূর শরীরে গরম পানি বা দাহ্য পদার্থ নিক্ষেপের অভিযোগ উঠেছে তাঁর স্বামী ও শ্বশুরের বিরুদ্ধে। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় গত পাঁচ দিন ধরে জয়পুরহাট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন তিনি। তবে গরম পানি নাকি অন্য কোনো দাহ্য পদার্থ ব্যবহার করা হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সাবেকুন নাহার জানান, তিনি জয়পুরহাট সদর উপজেলার কাদোয়া কয়রাপাড়া গ্রামের মোশাররফ হোসেনের মেয়ে। প্রায় দুই বছর আগে পাঁচবিবি উপজেলার খাসবাট্টা তৈফিকপাড়া গ্রামের আলেফ উদ্দীনের ছেলে সাজু মিয়ার সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। তাঁদের সাড়ে তিন মাস বয়সী একটি ছেলে সন্তান রয়েছে।

সাবেকুনের অভিযোগ, বিয়ের সময় তাঁর পরিবার আড়াই লাখ টাকা যৌতুক দিয়েছিল। সম্প্রতি তাঁর স্বামী আরও টাকা দাবি করছিলেন। বাবা আর্থিকভাবে অসচ্ছল হওয়ায় নতুন করে টাকা দিতে না পারায় গত ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে তাঁর শরীরে গরম পানি বা দাহ্য পদার্থ ছিটিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

সাবেকুনের বাবা মোশাররফ হোসেনের অভিযোগ, ওই রাতে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে তাঁর মেয়ার শরীরে স্বামী ও শ্বশুর গরম পানি অথবা দাহ্য পদার্থ নিক্ষেপ করেন। সাবেকুনের চিৎকার শুনে স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। মেয়ে কিছুটা সুস্থ হলে তিনি থানায় মামলা করবেন বলে জানান।

জয়পুরহাট জেনারেল হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মুর্শিদা পারভীন জলি জানান, সাবেকুন দাহ্য বা প্রদাহকারী কোনো পদার্থে দগ্ধ হয়েছেন। গরম পানি নাকি এসিড ছোড়া হয়েছে, তা নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। বর্তমানে তাঁর চিকিৎসা অব্যাহত রয়েছে।

ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত স্বামী ও শ্বশুর পলাতক রয়েছেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। তবে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তাঁরা অভিযোগ অস্বীকার করেন।

পাঁচবিবি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তামবিরুল ইসলাম জানান, ঘটনার বিষয়ে এখন পর্যন্ত পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ বা মামলা পেলে পুলিশ আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে।

উপরে