প্রকাশিত : ২ অক্টোবর, ২০২৬ ০০:৩৭

ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন শিক্ষকের ডিমোশন

চাঁদনী ডিজিটাল ডেস্ক রিপোর্টঃ
ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন শিক্ষকের ডিমোশন

ছাত্রীদের যৌন হয়রানির অভিযোগের তদন্তে সত্যতা পাওয়ার পর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) তিন শিক্ষককে এক ধাপ করে পদাবনতি দেওয়া হয়েছে। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ১২৩তম সিন্ডিকেট সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়।

পদাবনতি পাওয়া তিন শিক্ষক হলেন—পরিসংখ্যান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. রশীদুল ইসলাম, দুর্যোগ বিজ্ঞান ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. শাকিবুল ইসলাম এবং ভূগোল ও পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. শামীম হোসেন।

সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, অধ্যাপক রশীদুল ইসলামকে সহযোগী অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক শাকিবুল ইসলামকে সহকারী অধ্যাপক এবং সহকারী অধ্যাপক শামীম হোসেনকে প্রভাষক পদে অবনমিত করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, তিন শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রথমে তথ্যানুসন্ধান কমিটি এবং পরে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর বিষয়টি ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করা হয়। সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য ও অভিযোগকারীদের বক্তব্য শোনার পর ট্রাইব্যুনালের মতামতের ভিত্তিতে বিষয়টি সিন্ডিকেট সভায় তোলা হয়। সভায় তাদের গুরুদণ্ড হিসেবে এক ধাপ করে পদাবনতির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এ ছাড়া পদাবনতির পাশাপাশি তিন শিক্ষক কোনো নারী শিক্ষার্থীর গবেষণাকাজের তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না। এককভাবে কোনো নারী শিক্ষার্থীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রেও তাদের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপাচার্য।

এর আগে যৌন হয়রানির অভিযোগে অধ্যাপক রশীদুল ইসলামকে ২০২৫ সালের ৪ আগস্ট সিন্ডিকেটের ১১৩তম সভায় সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। পরে ২০২৬ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি সিন্ডিকেটের ১১৯তম সভায় সহকারী প্রক্টর শামীম হোসেন ও শাকিবুল ইসলামকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়।

রশীদুল ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগের সূত্রপাত হয় ২০২৫ সালের এপ্রিলে। ওই সময় তার সঙ্গে এক ছাত্রীর মেসেঞ্জারে কথোপকথনের কয়েকটি স্ক্রিনশট বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ফেসবুক পেজ ও গ্রুপে ছড়িয়ে পড়ে। ওই ছাত্রী পরিচয় গোপন রেখে স্ক্রিনশট প্রকাশের পাশাপাশি পরে ফেসবুকে এ বিষয়ে বিস্তারিত পোস্ট দেন। এর আগে ১৭ এপ্রিল ওই শিক্ষার্থী রশীদুল ইসলামের বিরুদ্ধে পরীক্ষার খাতায় নম্বর টেম্পারিং ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছিলেন।

এদিকে, ২০২৫ সালের ২ নভেম্বর দুর্যোগ বিজ্ঞান ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের এক শিক্ষার্থী সহযোগী অধ্যাপক ড. শাকিবুল ইসলামের বিরুদ্ধে প্রক্টর, ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক এবং যৌন নিপীড়ন সেলে যৌন হয়রানির লিখিত অভিযোগ দেন।

অন্যদিকে, ২০২৫ সালের ৩০ অক্টোবর ভূগোল ও পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের এক নারী শিক্ষার্থী সহকারী অধ্যাপক মো. শামীম হোসেনের বিরুদ্ধে ৩১ পৃষ্ঠার লিখিত যৌন হয়রানির অভিযোগ দেন।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে যৌন হয়রানি ও নিপীড়নের ঘটনায় কোনো নির্দোষ ব্যক্তি যাতে শাস্তি না পান এবং দোষী কেউ যাতে শাস্তি এড়িয়ে যেতে না পারেন, সে জন্য প্রথমে তথ্যানুসন্ধান কমিটি করা হয়। পরে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন ও ট্রাইব্যুনালের মতামতের ভিত্তিতে সিন্ডিকেটে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব আইনে এ বিষয়ে পর্যাপ্ত বিধান না থাকায় ২০১৮ সালের বিধিমালা অনুযায়ী ব্যবস্থা নির্ধারণে ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়। ট্রাইব্যুনালের মতামতের ভিত্তিতে সিন্ডিকেট তিন শিক্ষককে গুরুদণ্ড হিসেবে এক ধাপ করে পদাবনতির সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয়ে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি যাতে না ঘটে, সে জন্য শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক ও দায়িত্বশীল থাকার আহ্বান জানান উপাচার্য।

উপরে