প্রকাশিত : ১১ অক্টোবর, ২০২৬ ০০:৪৩

পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে সুদের টাকা আদায় ও নির্যাতনের অভিযোগ

‎জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সংবাদ সম্মেলন, নিরাপত্তা চাইলেন ভুক্তভোগী
নিজস্ব প্রতিবেদক
পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে সুদের টাকা আদায় ও নির্যাতনের অভিযোগ

‎বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার বেলভূজা গ্রামের বাসিন্দা আকলিমা বিবি পুলিশের বিশেষ শাখায় (এসবি) কর্মরত কনস্টেবল রুহুল আমিনের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত সুদের টাকা দাবি, বিদেশে লোক পাঠানোর নামে অর্থ লেনদেন, মামলা দিয়ে হয়রানি, মারধর, হুমকি ও নির্যাতনের অভিযোগ করেছেন। এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত, নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে তিনি জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন।
‎শনিবার (১০ অক্টোবর) রাজধানী ঢাকায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আকলিমা বিবি এসব অভিযোগ তুলে ধরেন। অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যের বিপি নম্বর ৮৬০৫০৯৮৫৭৯ বলে তিনি উল্লেখ করেন।
‎সংবাদ সম্মেলনে আকলিমা বিবি দাবি করেন, পারিবারিক প্রয়োজনে তিনি কনস্টেবল রুহুল আমিনের কাছ থেকে তিন লাখ টাকা ধার নিয়েছিলেন। তাঁর দাবি, আসল ও সুদ মিলিয়ে এ পর্যন্ত প্রায় আট লাখ টাকা পরিশোধ করেছেন। এরপরও তাঁর কাছে নতুন করে সুদের টাকা দাবি করা হচ্ছে। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁকে মারধর ও শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
‎আকলিমা বিবির ভাষ্য, এসব ঘটনার প্রতিবাদ এবং প্রতিকার চেয়ে তিনি বগুড়া সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন এবং আদালতে দুটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলা করার পর থেকে সেগুলো প্রত্যাহারের জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি প্রাণনাশের হুমকি ও মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ তাঁর।
‎তিনি আরও অভিযোগ করেন, গত ২০ জুন তাঁর বাড়িতে গিয়ে টেবিলের ওপর রাখা একটি ব্যাংক চেক নিয়ে যাওয়া হয়। এ ঘটনায়ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন বলে জানান তিনি।
‎আত্মীয়দের বিরুদ্ধে মামলা নিয়েও অভিযোগ
‎সংবাদ সম্মেলনে আকলিমা বিবি দাবি করেন, জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে কনস্টেবল রুহুল আমিনের বিরুদ্ধে তাঁর আত্মীয় বীর মুক্তিযোদ্ধা দবির উদ্দিন মণ্ডল এবং ফুফাতো ভাই রশিদ ও মাছুদের বিরুদ্ধে ঢাকার যাত্রাবাড়ী থানায় দুটি হত্যা মামলা দায়ের করানোর অভিযোগ রয়েছে। তাঁর দাবি, মামলা দুটি ২০২৫ সালের ৯ মার্চ ও ৬ জুলাই করা হয়। এসব মামলায় তাঁর স্বজনদের হয়রানি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

‎মারধরের অভিযোগঃ
‎আকলিমা বিবির অভিযোগ, গত ৪ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে কনস্টেবল রুহুল আমিন, তাঁর স্ত্রী রুনা খাতুন এবং শ্যালক আবু সাঈদ তাঁকে মারধর করেন। পরে তাঁরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। তাঁর চিৎকারে আশপাশের লোকজন সেখানে ছুটে আসেন বলে দাবি করেন তিনি। এ ঘটনায় কোনো মামলা বা লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়ে থাকলে তার নথি এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্যের মাধ্যমে বিষয়টি যাচাই করা প্রয়োজন।
‎বিদেশে পাঠানো ও চাকরির প্রলোভনে অর্থ নেওয়ার অভিযোগঃ
‎কনস্টেবল রুহুল আমিনের বিরুদ্ধে বিদেশে লোক পাঠানোর নামে অর্থ লেনদেন, সরকারি চাকরি দেওয়ার আশ্বাসে টাকা গ্রহণ এবং উচ্চ সুদে ঋণ দেওয়ার অভিযোগও তুলেছেন আকলিমা বিবি। তাঁর দাবি, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বিপদে পড়া মানুষের কাছ থেকে চেক ও স্বর্ণালংকার জামানত রেখে টাকা দেন এবং পরে অতিরিক্ত অর্থ দাবি করেন।

‎সুষ্ঠু তদন্ত ও নিরাপত্তার দাবি
‎আকলিমা বিবি বলেন, এসব ঘটনায় তিনি ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তিনি অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত, নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, দুর্নীতি দমন কমিশন, মানবাধিকার সংস্থা ও গণমাধ্যমের সহযোগিতা কামনা করেছেন।
‎
‎শিবগঞ্জ থানা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে তা তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে অভিযোগকারী জানিয়েছেন।

উপরে