প্রকাশিত : ১ নভেম্বর, ২০২৬ ০০:৫৮

জিপিএ-৫ ও পাসের হারে রাজশাহী শীর্ষে, বোর্ডে ফেল ৭৫ হাজারের বেশি

রাজশাহী সংবাদদাতাঃ
জিপিএ-৫ ও পাসের হারে রাজশাহী শীর্ষে, বোর্ডে ফেল ৭৫ হাজারের বেশি

এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে রাজশাহী মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের আট জেলার মধ্যে পাসের হার ও জিপিএ-৫—উভয় সূচকেই শীর্ষে রয়েছে রাজশাহী জেলা। বোর্ডে মোট জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের প্রায় ৪০ শতাংশই এ জেলার। তবে জেলার এই সাফল্যের বিপরীতে পুরো বোর্ডের ফলাফলে দেখা গেছে হতাশাজনক চিত্র। এবার বোর্ডে পাসের হার নেমে এসেছে ৪৫ দশমিক ০৬ শতাংশে। ফলে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া অর্ধেকেরও বেশি শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) বেলা ১১টায় রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ইফফাত জেরীন আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল প্রকাশ করেন।

বোর্ডের প্রকাশিত ফল অনুযায়ী, এ বছর জিপিএ-৫ পেয়েছে মোট ৪ হাজার ৫২০ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে রাজশাহী জেলার ১ হাজার ৭৮৫ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে, যা বোর্ডের মোট জিপিএ-৫-এর প্রায় ৩৯ দশমিক ৫ শতাংশ। এ তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে বগুড়া জেলা। এখানকার ১ হাজার ৩০৯ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে। তৃতীয় অবস্থানে থাকা পাবনায় জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫৫০ জন।

পাসের হারেও শীর্ষে রাজশাহী। এ জেলায় পাসের হার ৫৫ দশমিক ৩৩ শতাংশ। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা বগুড়ায় পাসের হার ৫৩ দশমিক ৬৪ শতাংশ। আর ৪১ দশমিক ৬৭ শতাংশ পাসের হার নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে জয়পুরহাট।

এ বছর রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে নিবন্ধন করেছিল ১ লাখ ৪১ হাজার ৯৩৬ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নেয় ১ লাখ ৩৭ হাজার ৩৫৬ জন। উত্তীর্ণ হয়েছে ৬১ হাজার ৮৯৪ জন। অকৃতকার্য হয়েছে ৭৫ হাজার ৪৬২ জন।

রাজশাহী জেলায় পরীক্ষার্থী ছিল ২৮ হাজার ৮৬ জন। তাঁদের মধ্যে পাস করেছে ১৫ হাজার ৫৪০ জন। বোর্ডের আট জেলার ৭৪৩টি কলেজের শিক্ষার্থীরা ২০৮টি কেন্দ্রে পরীক্ষায় অংশ নেয়।

ফলাফলে ছেলেদের তুলনায় এগিয়ে রয়েছে মেয়েরা। ছেলেদের পাসের হার ৩৭ দশমিক ৭১ শতাংশ, যেখানে মেয়েদের পাসের হার ৫৩ দশমিক ০৩ শতাংশ। জিপিএ-৫ পাওয়ার ক্ষেত্রেও মেয়েরা এগিয়ে। মোট ৪ হাজার ৫২০ জন জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর মধ্যে মেয়ে ২ হাজার ৫৫৫ জন এবং ছেলে ১ হাজার ৯৬৫ জন।

এবার পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে ৩১ জন শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বোর্ডের আট জেলার মাত্র ৯টি কলেজের সব পরীক্ষার্থী পাস করেছে। অন্যদিকে, ৩৯টি কলেজের কোনো পরীক্ষার্থীই উত্তীর্ণ হতে পারেনি।

গত কয়েক বছরের ফলাফল বিশ্লেষণে পাসের হারে সামগ্রিক নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা যায়। ২০২১ সালে বোর্ডে পাসের হার ছিল ৯৭ দশমিক ২৯ শতাংশ। ২০২২ সালে তা কমে দাঁড়ায় ৮১ দশমিক ৬০ শতাংশে। ২০২৩ সালে পাসের হার ছিল ৭৮ দশমিক ৪৬ শতাংশ। ২০২৪ সালে কিছুটা বেড়ে হয় ৮১ দশমিক ২৪ শতাংশ। গত বছর তা কমে ৫৯ দশমিক ৪০ শতাংশে নেমে আসে। এবার আরও কমে দাঁড়িয়েছে ৪৫ দশমিক ০৬ শতাংশে। করোনা মহামারির কারণে ২০২০ সালে অটোপাসের পর এবারই বোর্ডে পাসের হার সর্বনিম্ন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

ফলাফল সম্পর্কে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ইফফাত জেরীন বলেন, শিক্ষার্থীরা উত্তরপত্রে যেমন লিখেছে, সেভাবেই নম্বর পেয়েছে। কাউকে বাড়তি নম্বর দেওয়া হয়নি। এ কারণে সামগ্রিক ফলাফলে প্রভাব পড়েছে।

উপরে