প্রকাশিত : ৭ নভেম্বর, ২০২৬ ১১:১৯

আলট্রাসনোগ্রামে যমজ, সিজারের পর এক নবজাতক উধাও

আরমান হোসেন রুমন, নওগাঁ
আলট্রাসনোগ্রামে যমজ, সিজারের পর এক নবজাতক উধাও
 নওগাঁয় একটি বেসরকারি ক্লিনিকে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের পর যমজ নবজাতকের মধ্যে একটিকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হলেও অপরটির কোনো সন্ধান পাচ্ছে না স্বজনেরা। এ ঘটনায় ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে সদুত্তর না দেওয়া এবং বিষয়টি ধামাচাপা দিতে পরিবারকে আর্থিক প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ছাড়া অস্ত্রোপচারের পর প্রসূতির কাটা স্থানে সেলাই না করে দীর্ঘ সময় ফেলে রাখা এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক ভিডিও ধারণের অভিযোগও করেছেন ওই নারী।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিকেলে নওগাঁ শহরের বলাকা ক্লিনিকে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ওই দিন রাতেই নবজাতকের বাবা শান্ত ইসলাম নওগাঁ সদর মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শান্ত ইসলামের স্ত্রী শান্তনা আক্তার অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পর গত ১২ ও ২১ অক্টোবর দুটি পৃথক ডায়াগনস্টিক সেন্টারে আলট্রাসনোগ্রাম করান। উভয় পরীক্ষার প্রতিবেদনেই তাঁর গর্ভে দুটি জীবিত ভ্রূণ থাকার তথ্য উল্লেখ করা হয়। ১২ অক্টোবর জয়পুরহাটের আক্কেলপুরের ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারের প্রতিবেদনে দুটি ভ্রূণের হৃদস্পন্দন প্রতি মিনিটে ১৪৭ বার উল্লেখ করা হয়। পরে ২১ অক্টোবর নওগাঁর রি-লাইফ ডায়াগনস্টিক সেন্টারের প্রতিবেদনে দুটি ভ্রূণের হৃদস্পন্দন যথাক্রমে ১৪৬ ও ১৪০ বার এবং সম্ভাব্য ওজন ২ হাজার ৩৩১ ও ২ হাজার ৪৮৬ গ্রাম উল্লেখ করা হয়।

শান্ত ইসলাম বলেন, বৃহস্পতিবার বিকেলে চিকিৎসক ডা. মাহফুজা খাতুনের পরামর্শে তাঁর স্ত্রীকে বলাকা ক্লিনিকে ভর্তি করানো হয়। পরে ওই চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানেই সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার করা হয়। অস্ত্রোপচারের পর তাঁদের একটি কন্যা সন্তান দেওয়া হলেও অপর সন্তানটির বিষয়ে কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।

শান্তনা আক্তারের অভিযোগ, অস্ত্রোপচারের আগে থেকেই তিনি জানতেন তাঁর গর্ভে দুটি সন্তান রয়েছে। কিন্তু অস্ত্রোপচারের পর তাঁকে শুধু একটি মেয়ে শিশু দেখানো হয়। এ নিয়ে পরিবারের সদস্যরা প্রশ্ন তুললে ক্লিনিকের লোকজন ক্ষুব্ধ হন।

শান্তনা বলেন, ‘আমার পরিবারের সদস্যরা দুটি সন্তান কোথায় জানতে চাইলে আমার পেটের কাটা অংশ সেলাই না করেই ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট ফেলে রাখা হয়। এ সময় মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করে বলা হয় আমরা বিষয়টি মেনে না নিলে আমাকে এ অবস্থাতেই ফেলে রাখা হবে। পরে আমার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়, কাঁপুনি শুরু হয়। ভয়ে তাঁদের সব শর্ত মেনে নিয়ে দ্রুত সেলাই করার অনুরোধ করি। এরপর চিকিৎসক রাগারাগি ও হুমকি দিয়ে জোরপূর্বক ভিডিও ধারণ করে কাটা স্থানে সেলাই করেন। আমি আমার দুটি সন্তানকেই ফিরে পেতে চাই।’

শান্ত ইসলামের অভিযোগ, অপর নবজাতকের বিষয়ে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের কাছে জানতে চাইলে তাঁরা কোনো সন্তোষজনক উত্তর দেননি। উল্টো বিষয়টি নিয়ে আর কথা না বাড়াতে তাঁকে আর্থিক প্রস্তাব দেওয়া হয়।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে বলাকা ক্লিনিকের মালিক এনামুল হক বলেন, ‘ডা. মাহফুজা খাতুনের পরামর্শেই রোগীকে ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছিল। তিনিই অস্ত্রোপচার করেছেন। বাচ্চা একটি হয়েছে। এরপরেও কিছু টাকা দিয়ে আপোষের চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু তারা আরও মোটা অংকের টাকা দাবী করছে। অভিযোগ গুলো ভিত্তিহীন।’

অভিযোগের বিষয়ে জানতে ডা. মাহফুজা খাতুনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কথা বলতে রাজি হননি।

নওগাঁর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘নবজাতকের বাবা থানায় এসে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
উপরে