প্রকাশিত : ৯ মার্চ, ২০২৬ ০০:৫১

সলঙ্গায় জমজমাট ইফতারি বাজার

জি.এম স্বপ্না,সলঙ্গা, সিরাজগঞ্জঃ
সলঙ্গায় জমজমাট ইফতারি বাজার
পবিত্র রমজান মাস এলেই সিরাজগঞ্জের সলঙ্গা এলাকার হাট-বাজার ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কের মোড়ে ভিন্ন এক প্রাণচাঞ্চল্য দেখা যায়। বিকেলের দিকে এসব স্থানে জমে ওঠে জমজমাট ইফতারি বাজার।ঝকঝকে দোকান বা আধুনিক পরিবেশ না থাকলেও কাঠের টেবিলের ওপর পলিথিন বিছিয়ে সাজানো হয় নানা রকম ইফতারি সামগ্রী।স্বল্প আয়ের মানুষের কাছে এসব ইফতারি বাজার যেন স্বস্তির ঠিকানা।
বাজারগুলোতে ছোলা,বুন্দিয়া,মুড়ি, পিয়াজু,বেগুনি,আলুর চপ,জিলাপি, খেজুর,নিমকিসহ নানা মুখরোচক খাবার সাজিয়ে রাখা হয়।দুপুরের পর থেকেই দোকানিরা ইফতারি প্রস্তুত করে রাখেন,তবে বিকেলের দিকে ক্রেতা-বিক্রেতার উপচে পড়া ভীড়ে পুরো বাজার প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
বিশেষ করে ঘোলের দোকানগুলোতে সারিবদ্ধভাবে বোতলে সাজানো থাকে ঠান্ডা ও সুস্বাদু ঘোল।অনেকেই আবার ফুটপাতের ভ্রাম্যমাণ দোকান থেকে ইফতারের জন্য বিরিয়ানির প্যাকেটও কিনে নিচ্ছেন।অধিকাংশ ইফতারি আইটেমের দাম ২০ থেকে ৫০ টাকার মধ্যে হওয়ায় সাধারণ রোজাদারদের ভীড় বেশি দেখা যায় এসব দোকানে।
বওলাতলা গ্রামের ক্রেতা হোসেন আলী বলেন,“ইফতারের সময় পরিবার নিয়ে বিভিন্ন আইটেম খেতে ভালো লাগে। তাই বাজারে এসে নিজের পছন্দমতো ইফতারি কিনছি।”
সলঙ্গা বাজারের হোটেল মালিক আব্দুল আলিম জানান,রমজানের প্রথম দিন থেকেই ইফতারির ভালো বেচাকেনা হচ্ছে।তিনি বলেন,“বিকেলের পর থেকে রোজাদারদের ইফতারি দিতে দোকানে প্রচুর চাপ থাকে।আশা করছি পুরো মাসই এমন ভালো বেচাকেনা হবে ইনশাআল্লাহ।”
অন্যদিকে সলঙ্গা বাজারের পাপিয়া হোটেলের মালিক শহিদুল ইসলাম বলেন,“রমজান মাস এলেই সকাল থেকেই ইফতারি প্রস্তুত করি।বিকেল থেকে বিক্রি শুরু হয়,আর সন্ধ্যা যত ঘনিয়ে আসে মানুষের তাড়াহুড়াও তত বাড়ে।”
দশানী পাড়ার দোকানি শাহাদাত হোসেন জানান,সারা বছর তিনি ঝালমুড়ি বিক্রি করেন।তবে রমজান এলেই ছোলা ও বুন্দিয়া বিক্রি শুরু করেন।তিনি বলেন, “মাগরিবের আজান পড়তেই মুহূর্তে ফাঁকা হয়ে যায় ফুটপাতের এসব ইফতারি দোকান।তখন সবাই দ্রুত ইফতার করতে চলে যায়।”
ব্যবসায়ীরা আশা করছেন,পুরো রমজান জুড়ে যদি এমন ক্রেতার সমাগম থাকে তাহলে তাদের ব্যবসা ভালো হবে।তবে ক্রেতাদের দাবি, ইফতারি পণ্যসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি জোরদার করা প্রয়োজন।
উপরে