বেহাল সড়ক দেখা যাচ্ছে বন্যাদুর্গত এলাকায়। বন্যার পানির তোড়ে উঠে গেছে পাকা সড়কের পিচ পাথর, ইট। কোথাও কোথাও আবার কয়েক কিলোমিটার রাস্তায় বড়বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বন্যার পানি যতই কমে যাচ্ছে বগুড়ায় সড়কের ক্ষয়ক্ষতির চিত্র ততোটায় ফুটে উঠছে। পাকা সড়ক খানা খন্দকে পরিনত হওয়ায় পথচারীদের দূর্ভোগ চরমে উঠেছে। কোথাও আবার স্বাভাবিক যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। কাঁচারাস্তাগুলোর সিংহভাগ এখনো রয়েছে পানির নিচে। বন্যা এলাকায় যোগাযোগের ক্ষেত্রে এখন রয়েছে নানা দুর্ভোগ। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ জেলার ৬ উপজেলার কাঁচা ও পাকা মিলিয়ে ৩৮০ কিলেমিটার রাস্তা নষ্ট হয়েছে।
বগুড়া জেলা ত্রান ও পুনর্বাসন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জেলার সোনাতলা, সারিয়াকন্দি, ধুনট ও শাজাহানপুর উপজেলা মিলিয়ে বন্যায় ২৮৫ কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা এবং ৯৫ কিলেমিটার পাকা রাস্তা নষ্ট হয়ে গেছে। কাঁচা ও পাকা মিলিয়ে জেলায় মোট রাস্তা আংশিক নষ্ট হয়েছে প্রায় ৩৮০ কিলোমিটার। এখনও কিছু রাস্তা থেকে পানি সরে না যাওয়ায় টাকার অংকে ক্ষতির পরিমান এখনই বলা যাচ্ছে না বলে জানান প্রকৌশলীরা। তবে কোন কোন রাস্তার আংশিক ক্ষতি হয়েছে বলে দাবী করা হয়েছে।
জানা যায়, চলতি বছরের জুলাই এর মাঝামাঝি সময় থেকে শুরু হওয়া এবারের ভয়াবহ বন্যায় বগুড়ার ৬টি উপজেলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। জেলার সোনাতলা উপজেলার ১টি পৌরসভা ও ৭টি ইউনিয়নের প্রায় ৩৮ কিলোমিটার পাকা সড়ক খানা খন্দকে পরিনত হয়েছে। বন্যার পানির স্রোতের তোড়ে সড়কগুলোর কার্পেটিং পিচ উঠে গিয়ে ছোট বড় অসংখ্য গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এমনকি স্বাভাবিক যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে সোনাতলা উপজেলার বিভিন্ন সড়ক। শাজাহানপুর উপজেলার ১ কিলোমিটার পাকা রাস্তা নষ্ট হয়েছে।
বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলা স্থানীয় সরকার সহকারি প্রকৌশলী লিয়াতক আলী জানান, উপজেলায় ২৬ কিলোমিটার পাকা রাস্তা বন্যার পানির তোড়ে নষ্ট হয়ে গেছে। এখানে ৫ টি ব্রীজ-কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ায় উপজেলার অভ্যান্তরে যোাগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। পানি থাকায় কোন কোন স্থানে নৌ চলাচল শুরু হয়েছে। এক স্থান থেকে আর এক স্থানে যেতে একমাত্র বাহন নৌকা।
বগুড়ার গাবতলী উপজেলার এলজিইডি’র সহকারি প্রকৌশলী রিপন কুমার সাহা জানান, বন্যায় ৩০ কিলোমিটারের বেশি পাকা রাস্তা এখনও বন্যার পানির নিচে আছে। পানিতে তলিয়ে থাকায় রাস্তাগুলোর ক্ষয় ক্ষতি হয়েছে। পানি যতই কমে যাচ্ছে ততটায় রাস্তা ভাঙ্গা আর পিচ পাথর উঠে গিয়ে বিবর্ন হয়ে ভেসে উঠছে।
বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার হাটকরমজা এলাকার বাসিন্দারা জানান, বন্যার পানির স্রোতে রাস্তাঘাটের ক্ষতিসাধন হয়েছে। বন্যার পানি নেমে যাচ্ছে আর রাস্তাগুলোর বেহাল দশা দেখা যাচ্ছে। কাঁচা রাস্তাগুলো আর বেহাল। রাতার বিভিন্ন স্থানে ছোট বড় বড় গর্ত দেখা যাচ্ছে।
বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলা সদরের পথচারিরা জানান, বন্যায় বেশকিছু রাস্তা ভেঙ্গে গেছে। পানি যতটায় কমে যাচ্ছে ততটায় ইট, পাথর সরে যাওয়া দেখা যাচ্ছে। এইসব রাস্তা দ্রুত সংস্কার না করা হলে নানা দুর্ভোগে পড়তে হবে।
বগুড়ার সোনাতলা উপজেলা প্রকৌশলী মোখলেছুর রহমান জানান, সড়কগুলো সংস্কার করতে প্রায় ১৫ কোটি টাকার প্রয়োজন। সড়কগুলো সংস্কার করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যেই ৮ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। পর্যায়ক্রমে বরাদ্দকৃত টাকার পরিমাণ আরও বৃদ্ধি পাবে। এছাড়াও স্থানীয় সংসদ সদস্য আব্দুল মান্নান সড়কগুলো দ্রুত সংস্কার করতে নির্দেশনা দিয়েছেন।
বগুড়া জেলা ত্রান ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আজাহার আলী মন্ডল জানান, গত ৪ আগস্ট পর্যন্ত বন্যা কবলিত উপজেলার কর্মকর্তাদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যমতে কাঁচা সড়ক ২৮৫ কিলোমিটার এবং পাকা সড়ক প্রায় ৯৫.৬০ কিলোমিটার রাস্তার ক্ষতি হয়েছে। বন্যা পরে এই ক্ষতিগ্রস্থ রাস্তাগুলো মেরামত করার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগ কাজ করবেন।