যথাযোগ্য ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে বগুড়ায় হক্বের দাওয়াত সিদ্দীক্বিয়া দরবারে পবিত্র শবে বরাত পালিত | Daily Chandni Bazar যথাযোগ্য ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে বগুড়ায় হক্বের দাওয়াত সিদ্দীক্বিয়া দরবারে পবিত্র শবে বরাত পালিত | Daily Chandni Bazar
logo
প্রকাশিত : ৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ০৮:৫৬
যথাযোগ্য ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে বগুড়ায় হক্বের দাওয়াত সিদ্দীক্বিয়া দরবারে পবিত্র শবে বরাত পালিত
নিজস্ব প্রতিবেদক

যথাযোগ্য ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে বগুড়ায় হক্বের দাওয়াত সিদ্দীক্বিয়া দরবারে পবিত্র শবে বরাত পালিত

শবে বরাত উপলক্ষে বগুড়ায় হক্বের দাওয়াত সিদ্দীক্বিয়া দরবারের প্রধান ফটক সাজানো হয়েছে। ছবি- সংগৃহীত

সারা দেশের ন্যায় বগুড়ার হক্বের দাওয়াত সিদ্দীক্বিয়া দরবার ও সুন্নতী জামে মসজিদ, বারোপুরে গত মঙ্গলবার দিবাগত রাতে বিপুল ধর্মপ্রাণ মুসল্লির অংশগ্রহণে যথাযোগ্য ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে পবিত্র শবে বরাত পালিত হয়েছে।

দরবারের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ও পেশ ইমাম মুহাম্মাদ এম.এম.ডি. ইমাম আশরাফ আলীমুল্লহ্ সিদ্দীকীর তত্ত্বাবধানে সম্মিলিত ইফতার আয়োজনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে শবে বরাতের কর্মসূচি শুরু হয়। এরপর বাদ মাগরিব থেকে ফজর পর্যন্ত রাতব্যাপী নানা ইবাদত ও ধর্মীয় কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচির মধ্যে ছিল পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত, হামদ-নাত, জিকির-আজকার, নফল নামাজ, মিলাদ ও কিয়াম।

 

এ উপলক্ষে পেশ ইমাম মুহাম্মাদ এম.এম.ডি. ইমাম আশরাফ আলীমুল্লহ্ সিদ্দীকী মহিমান্বিত ‘লাইলাতুল বরাত’ তথা সৌভাগ্যের রজনীর ফজিলত ও গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করেন। এ সময় তিনি এই রজনীর তাৎপর্য উল্লেখ করে বলেন -

শবই বরাতের ১৪ রাকাত নামাজের রয়েছে বিশেষ ফজিলত -  রসুলুল্লাহ () এর শব-ই বরাতের রাতে ১৪ রাকাত নামাজ পড়ার বর্ণনা, যা দুই রাকাত করে ৭ বার পড়তে হবে। এতে সূরা ফাতিহার সাথে সূরা ইখলাস, সূরা ফালাক, সূরা নাস এবং আয়াতুল কুরসি পড়ার সুন্নত রয়েছে। এই নামাজের মাধ্যমে ২৮ খতম কুরআন পাঠের সওয়াব পাওয়ার কথা এসেছে।

এর সাথে শবই বরাতের রোজার ফজিলতও অনন্য।  শবে বরাতে রোজা রাখার ব্যাপারে যে হাদীসগুলো এসেছে তা থেকে বোঝা যায় যে এই রোজার বিশেষ ফজিলত রয়েছে, যেমন, যারা এই দিনে রোজা রাখবে তাদের জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তি দেয়া হবে। হাদীসে আরও বলা হয়েছে যে, আল্লাহ এই রাতে তাঁর বান্দাদের জন্য রহমতের ১০০টি দরজা খুলে দেন, তবে কিছু ব্যক্তি ছাড়া, যারা গুনাহে লিপ্ত (যেমন মুশরিক, মদ্যপানকারী, সুদখোর ইত্যাদি)।

শবে বরাতে হালুয়া রুটি বানানো বা সেগুলি একে অপরকে উপহার দেয়া সুন্নত বা মুবাহ, যদিও এটি ফরজ বা ওয়াজিব নয়। ইসলাম মানুষকে একে অপরকে খেতে দেয়ার ব্যাপারে উৎসাহিত করেছে।

 

রাতব্যাপী ইবাদত বন্দেগী শেষে দরবার শরীফের পক্ষ থেকে গরুর গোস্তের আলুঘাটি রান্না করে আগত লাখো ধর্মপ্রাণ মুসল্লির জন্য সাহরীর ব্যবস্থা করা হয়, যা উপস্থিত মুসল্লিদের মাঝে ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করে।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে অতীতের সকল গুনাহ ও অন্যায়ের জন্য মহান আল্লাহর দরবারে ক্ষমা প্রার্থনা করা হয় এবং দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।