বগুড়ার শিবগঞ্জে স্বামীর সঙ্গে ভোট দেওয়া নিয়ে বিরোধের জেরে বিষপান করা গৃহবধূ গোলাপী বেগমের পাশে দাঁড়িয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
রোববার (৮ মার্চ) বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে তার নিজ গ্রাম গুজিয়া মাঝপাড়া এলাকায় ঈদ উপহার ও নগদ অর্থ পৌঁছে দেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এমপি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শিবগঞ্জ উপজেলার গুজিয়া মাঝপাড়া গ্রামের গৃহবধূ গোলাপী বেগম গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিতে চেয়েছিলেন। তবে তার স্বামী তাকে জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দেওয়ার জন্য চাপ দেন। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে তর্ক-বিতর্ক ও ঝগড়া হয়। পরে স্বামী ভোট দিতে কেন্দ্রে গেলে গোলাপী বেগম ক্ষোভ ও অভিমানে বাড়িতে বিষপান করেন।
পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি টের পেয়ে দ্রুত তাকে উদ্ধার করে শিবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। পরে বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম তার চিকিৎসার খোঁজখবর নেন এবং সার্বিক সহযোগিতা করেন। একই সঙ্গে তিনি গোলাপী বেগমের চিকিৎসার যাবতীয় ব্যয়ভার বহনের ঘোষণা দেন।
ঘটনাটি প্রধানমন্ত্রীর নজরে এলে তিনি গোলাপী বেগমের খোঁজখবর নেওয়ার নির্দেশ দেন। এরই ধারাবাহিকতায় রোববার বিকেলে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম গুজিয়া মাঝপাড়া গ্রামে গিয়ে গোলাপী বেগমের হাতে প্রধানমন্ত্রীর পাঠানো ঈদ সামগ্রী ও নগদ উপহার তুলে দেন।
এ সময় তিনি গোলাপী বেগমকে ‘বোন’ সম্বোধন করে ভবিষ্যতেও তার পাশে থাকার আশ্বাস দেন। উপহার পেয়ে গোলাপী বেগম আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
গোলাপী বেগম বলেন, ভোট দেওয়া একজন নাগরিকের অধিকার। কিন্তু এ কারণে তাকে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে তা তিনি ভাবেননি। এ সময় তিনি তার পাশে দাঁড়ানোর জন্য প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।