উদ্বোধনের আগেই ধসে পড়েছে বগুড়া পৌর পার্কে নির্মাণাধীন ব্যায়ামাগার (জিম) ভবনের ছাদ। সোমবার দিনেই ছাদ ঢালাইয়ের কাজ শেষ করা হয়। তবে রাতেই ছাদটি ধসে পড়ে। এ ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে এবং ঠিকাদারের বিরুদ্ধে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বগুড়া পৌর পার্কের সৌন্দর্যবর্ধনের অংশ হিসেবে ব্যায়ামাগার ভবন নির্মাণে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ১৪ লাখ ৫৩ হাজার ২৫১ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রকল্প অনুযায়ী গত বছরের ২৯ জানুয়ারি নির্মাণকাজ শুরু হওয়ার কথা ছিল এবং একই বছরের ১১ নভেম্বর কাজ শেষ করার সময়সীমা নির্ধারিত ছিল। তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নানা গড়িমসির কারণে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করা সম্ভব হয়নি।
পৌর পার্কে নিয়মিত ব্যায়াম করতে আসা আখতারুজ্জামান বলেন, তারা প্রতিদিন ভোরে ব্যায়াম শেষে একটি টিনশেডে বিশ্রাম নিতেন। পরে সেই শেড ভেঙে সেখানে ছাদ ঢালাই করে স্থায়ী ভবন নির্মাণের দাবি তোলা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে পৌর কর্তৃপক্ষ ব্যায়ামাগার ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। মঙ্গলবার সকালে পার্কে গিয়ে তিনি দেখতে পান ভবনের ছাদ ধসে পড়েছে।
তিনি বলেন, “যদি ভবনটি পুরোপুরি নির্মাণ শেষ হওয়ার পর এ ঘটনা ঘটতো, তাহলে বড় ধরনের প্রাণহানির আশঙ্কা ছিল।” তার অভিযোগ, ঠিকাদারের গাফিলতি ও নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের কারণেই ছাদ ধসে পড়েছে।
তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জয় ট্রেডার্সের মালিক জয় হাসান নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ভবনের একটি খুঁটির গোড়া থেকে মাটি সরে যাওয়ায় খুঁটিটি নড়ে যায় এবং এ কারণেই ছাদ ধসে পড়ে।
বগুড়া পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী ওয়াহিদুর রহমান বলেন, ছাদ ধসের কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঠিকাদারের কাজের মান নিয়ে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।