আগামী ঈদুল আজহায় দীর্ঘ প্রবাস জীবনের ইতি টেনে স্থায়ীভাবে দেশে ফেরার কথা ছিল নূরনবী সরকারের। কিন্তু তার আগেই লাশ হয়ে ফিরতে হচ্ছে তাকে। মালদ্বীপে অগ্নিকাণ্ডে নিহত পাঁচ বাংলাদেশি শ্রমিকের একজন তিনি।
নিহত নূরনবী সরকার (২৭) বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার ময়দানহাটা ইউনিয়নের জামালপুর গ্রামের আব্দুস সামাদের ছেলে।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) রাতে মালদ্বীপের দিঘুরা আইল্যান্ডে শ্রমিক কোয়ার্টারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে তার মৃত্যু হয়।
তার মৃত্যুর খবর গ্রামে পৌঁছালে বাড়িতে শোকের ছায়া নেমে আসে। একমাত্র ছেলের মরদেহ দেশে আনা নিয়ে উদ্বেগে দিন কাটছে পরিবারের সদস্যদের।
শনিবার (১৪ মার্চ) সকালে নূরনবীর বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিবেশীরা ভিড় করে শোকসন্তপ্ত পরিবারকে সান্ত্বনা দিচ্ছেন। তিন বোনের একমাত্র ভাই নূরনবী ছিলেন পরিবারের ছোট সন্তান এবং পরিবারের প্রধান ভরসা।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, পরিবারের সচ্ছলতা ফেরাতে মাত্র ১৮ বছর বয়সে ২০১৬ সালে মালদ্বীপে পাড়ি জমান নূরনবী। সেখানে একটি প্রতিষ্ঠানে নির্মাণশ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন তিনি। প্রায় ১০ বছর প্রবাসে থাকার পর আগামী কোরবানির ঈদে দেশে ফিরে স্থায়ীভাবে থাকার পরিকল্পনা করেছিলেন।
নূরনবীর বাবা আব্দুস সামাদ বিলাপ করে বলেন, “অন্তত ছেলের মুখটা যেন শেষবারের মতো দেখতে পারি। সরকার যেন দ্রুত আমার ছেলের লাশ দেশে আনার ব্যবস্থা করে।”
পরিবারের দাবি, সেহরির রান্না করতে গিয়ে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের পর অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। এতে নূরনবীসহ পাঁচ বাংলাদেশি শ্রমিক নিহত হন। মালদ্বীপে বাংলাদেশ হাইকমিশন থেকে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হলেও মরদেহ দেশে পাঠানোর বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো তথ্য না পাওয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে স্বজনদের মধ্যে।
নূরনবীর ভাগ্নে মাহবুব আলম বলেন, “মামা ১০ বছরে একবারও দেশে আসেননি। এবার আসার কথা পাকা ছিল। কিন্তু এখন কবে মরদেহ দেশে আসবে, তা আমরা জানি না।”
এ বিষয়ে প্রবাসী কল্যাণ সেন্টার বগুড়ার সহকারী পরিচালক আনিসুর রহমান বলেন, নিহতের পরিবারের সঙ্গে দেখা করা হয়েছে। মরদেহ দ্রুত দেশে আনার জন্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে।
শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জিয়াউর রহমান বলেন, মালদ্বীপে বাংলাদেশ হাইকমিশন থেকে আনুষ্ঠানিক তথ্য পাওয়া গেলে মরদেহ দেশে আনার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।