বিপদ এড়াতে পেট্রোল-ডিজেল ভরাব সময় ৫ বিষয়ে খেয়াল রাখবেন | Daily Chandni Bazar বিপদ এড়াতে পেট্রোল-ডিজেল ভরাব সময় ৫ বিষয়ে খেয়াল রাখবেন | Daily Chandni Bazar
logo
প্রকাশিত : ১৭ মার্চ, ২০২৬ ১৫:৩৮
বিপদ এড়াতে পেট্রোল-ডিজেল ভরাব সময় ৫ বিষয়ে খেয়াল রাখবেন
চাঁদনী ডিজিটাল ডেস্ক রিপোর্টঃ

বিপদ এড়াতে পেট্রোল-ডিজেল ভরাব সময় ৫ বিষয়ে খেয়াল রাখবেন

বাংলাদেশে জ্বালানির দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে গাড়ি চালানোর খরচও বেড়েছে। বর্তমানে পেট্রোল ও ডিজেলের মূল্য সাধারণ মানুষের জন্য একটি বড় চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে যদি পাম্পে গিয়ে জ্বালানি কম পাওয়া যায় বা কোনো ধরনের প্রতারণার শিকার হতে হয়, তাহলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বেড়ে যায়। তাই গাড়িতে তেল নেওয়ার সময় কিছু সাধারণ বিষয় সম্পর্কে সচেতন থাকা খুবই জরুরি। সামান্য সতর্কতা আপনাকে অপ্রয়োজনীয় ক্ষতি থেকে বাঁচাতে পারে।

প্রথমেই নিশ্চিত করতে হবে যে পাম্পের মিটার শূন্য থেকে শুরু হচ্ছে কি না। অনেক সময় দেখা যায় আগের গ্রাহকের পর মিটার পুরোপুরি রিসেট না করেই নতুন করে জ্বালানি দেওয়া শুরু করা হয়। এতে আপনি পুরো টাকা দিলেও প্রকৃতপক্ষে কম জ্বালানি পেতে পারেন। তাই গাড়ি থেকে নেমে নিজেই মিটারটি দেখে নেওয়া ভালো এবং নিশ্চিত হতে হবে যে সেটি ০.০০ থেকে শুরু হচ্ছে।

দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো গোল অঙ্কের পরিবর্তে ভিন্ন অঙ্কে জ্বালানি নেওয়া। সাধারণত ১০০, ২০০ বা ৫০০ টাকার মতো নির্দিষ্ট অঙ্কে তেল নেওয়া হয়। তবে অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, এর বদলে ১০১ বা ২০৩ টাকার মতো অঙ্কে জ্বালানি নিতে বললে প্রতারণার সুযোগ কমে যায়। এতে মিটার পর্যবেক্ষণ করাও সহজ হয় এবং অনিয়ম ধরা পড়ার সম্ভাবনাও বাড়ে।

তৃতীয়ত, জ্বালানি নেওয়ার সময় গাড়ির ভেতরে বসে না থেকে পাম্পের পাশে দাঁড়িয়ে পুরো প্রক্রিয়াটি নজরে রাখা উচিত। অনেক সময় পাম্পের কর্মীরা গ্রাহকের সঙ্গে কথা বলতে বলতে দ্রুত মিটার চালানো বা অন্য কোনো কৌশল ব্যবহার করতে পারে। আপনি যদি কাছে দাঁড়িয়ে থাকেন, তাহলে এ ধরনের ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়।

চতুর্থ বিষয়টি হলো পাম্পের নজল ও সিল পরীক্ষা করা। ভালো পেট্রোল পাম্পে সাধারণত সরকারি অনুমোদিত ক্যালিব্রেশন সিল থাকে। যদি নজল অস্বাভাবিকভাবে নোংরা বা সিল ভাঙা মনে হয়, তাহলে সতর্ক হওয়া ভালো। কারণ এতে জ্বালানির মান নিয়ে সন্দেহ থাকতে পারে। সব সময় পরিচিত ও নির্ভরযোগ্য পাম্প থেকে তেল নেওয়ার চেষ্টা করা উচিত।

সবশেষে, জ্বালানি নেওয়ার পর অবশ্যই রসিদ সংগ্রহ করা ভালো অভ্যাস। এতে লেনদেনের পরিমাণ, সময় এবং অন্যান্য তথ্য উল্লেখ থাকে। যদি কখনো কোনো অসঙ্গতি চোখে পড়ে, তাহলে এই রসিদ প্রমাণ হিসেবে কাজে লাগতে পারে। প্রয়োজন হলে ভোক্তা অধিকার সংক্রান্ত কর্তৃপক্ষের কাছেও অভিযোগ জানানো সম্ভব।

জ্বালানির দাম যখন বাড়তি চাপ তৈরি করছে, তখন সামান্য সচেতনতাই বড় ক্ষতি থেকে রক্ষা করতে পারে। তাই পরেরবার পেট্রোল বা ডিজেল নিতে গেলে এই কয়েকটি বিষয় মনে রাখলে প্রতারণার ঝুঁকি অনেকটাই কমে যাবে এবং আপনার খরচও কিছুটা সাশ্রয় হবে। এছাড়া কোনোভাবে প্রতারিত হলে জাতীয় ভোক্তা-অভিযোগ কেন্দ্র হটলাইন নম্বর: ১৬১২১ কল করে অভিযোগ জানাতে পারেন।