বগুড়ায় জ্বালানি সংকট : অর্ধেকের বেশি পাম্প বন্ধ, স্থবির জনজীবন | Daily Chandni Bazar বগুড়ায় জ্বালানি সংকট : অর্ধেকের বেশি পাম্প বন্ধ, স্থবির জনজীবন | Daily Chandni Bazar
logo
প্রকাশিত : ২৪ মার্চ, ২০২৬ ০১:৫৮
বগুড়ায় জ্বালানি সংকট : অর্ধেকের বেশি পাম্প বন্ধ, স্থবির জনজীবন
নিজস্ব প্রতিবেদক

বগুড়ায় জ্বালানি সংকট : অর্ধেকের বেশি পাম্প বন্ধ, স্থবির জনজীবন

ঈদের পর কর্মব্যস্ত সময়ে বগুড়াজুড়ে দেখা দিয়েছে তীব্র জ্বালানি সংকট। শহরের একের পর এক পেট্রোল পাম্পে ঝুলছে ‘জ্বালানি নেই’ সাইনবোর্ড, কোথাও আবার পুরো পাম্প বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এতে জনজীবনে নেমে এসেছে স্থবিরতা।

জেলা শহর ও আশপাশের এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, মোট ৭২টি পাম্পের মধ্যে অর্ধেকের বেশি কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। খোলা থাকা পাম্পগুলোতেও সীমিত পরিসরে জ্বালানি বিক্রি চলছে, যা সংকটকে আরও জটিল করে তুলেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত কয়েকদিন ধরেই জ্বালানি সরবরাহে ঘাটতি চলছিল। ঈদের আগের রাতে অতিরিক্ত চাহিদার কারণে পাম্পগুলোর মজুত দ্রুত শেষ হয়ে যায়। ঈদের দিন থেকেই এর প্রভাব স্পষ্ট হতে শুরু করে। পরদিন কিছু পাম্প সীমিত আকারে বিক্রি শুরু করলেও পরবর্তীতে পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটে এবং একে একে পাম্পগুলো বন্ধ হয়ে যায়।

এই সংকটের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে পরিবহন খাতে। ব্যক্তিগত যানবাহন থেকে শুরু করে গণপরিবহন—সব ক্ষেত্রেই চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এতে যাত্রী দুর্ভোগও বেড়েছে।

বাইকচালক মেহেদি হাসান লেলিন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এভাবে দেশ চলতে পারে না। সত্যিই তেলের সংকট নাকি কৃত্রিমভাবে তৈরি করা হয়েছে—সরকারের উচিত বিষয়টি খতিয়ে দেখা।”

আরেক মোটরসাইকেল চালক রুহুল আমিন লিটন বলেন, “খোলা বাজারে তেল পাওয়া গেলেও পাম্পে গেলে ‘নেই’ বলা হচ্ছে। এতে সিন্ডিকেটের সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে বলে মনে হচ্ছে।”

পাম্প সংশ্লিষ্ট আব্বাস আলী জানান, চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ না পাওয়ায় সকাল পর্যন্ত বিক্রি করার পর মজুত শেষ হয়ে গেলে পাম্প বন্ধ করতে হয়েছে। সরবরাহ স্বাভাবিক হলেই আবার বিক্রি শুরু করা হবে।

এ বিষয়ে রাজশাহী পেট্রোলিয়াম ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন বগুড়া জেলা শাখার সভাপতি মিজানুর রহমান রতন বলেন, “৭২টি পাম্পের মধ্যে ৪০টির বেশি বন্ধ রয়েছে। যেগুলো খোলা আছে, সেগুলোতেও তীব্র সংকট চলছে।”

বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে কৃষি, পরিবহন এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। এটি শুধুই সরবরাহ ঘাটতির ফল, নাকি এর পেছনে কৃত্রিম সংকট বা সিন্ডিকেট রয়েছে—তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে।

সব মিলিয়ে, জ্বালানি সংকটে বগুড়ার জনজীবন ক্রমেই অচল হয়ে পড়ছে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা সংশ্লিষ্টদের।