বগুড়ায় রবিন হত্যাকাণ্ড ঘিরে তাণ্ডব: হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগে রণক্ষেত্র এলাকা | Daily Chandni Bazar বগুড়ায় রবিন হত্যাকাণ্ড ঘিরে তাণ্ডব: হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগে রণক্ষেত্র এলাকা | Daily Chandni Bazar
logo
প্রকাশিত : ৬ এপ্রিল, ২০২৬ ২১:৩৯
বগুড়ায় রবিন হত্যাকাণ্ড ঘিরে তাণ্ডব: হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগে রণক্ষেত্র এলাকা
নিজস্ব প্রতিবেদক

বগুড়ায় রবিন হত্যাকাণ্ড ঘিরে তাণ্ডব: হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগে রণক্ষেত্র এলাকা

বগুড়া শহরের উত্তর চেলোপাড়ায় যুবক রবিন (২৮) হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে নজিরবিহীন সহিংসতায় রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে পুরো এলাকা। ফুলবাড়ী দক্ষিণ বানিয়াপাড়া এলাকায় বাড়িঘরে হামলা, ব্যাপক ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় জনমনে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। এতে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রবিবার (৫ এপ্রিল) রাতে পূর্ব শত্রুতার জেরে উত্তর চেলোপাড়ায় রবিনকে প্রকাশ্যে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। হামলাকারীরা তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
সোমবার (৬ এপ্রিল) ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ এলাকায় পৌঁছালে পরিস্থিতি চরম উত্তেজনাকর হয়ে ওঠে। ক্ষুব্ধ স্বজন ও এলাকাবাসী ফুলবাড়ী বানিয়াপাড়া এলাকায় একযোগে বাড়িঘরে হামলা চালায়। এতে একাধিক বাড়িতে ভাঙচুর, লুটপাট এবং কয়েকটি বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। নারী-পুরুষ নির্বিশেষে এই সহিংসতায় অংশগ্রহণের অভিযোগ উঠেছে।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এ সহিংসতা থেকে রেহাই পাননি গণমাধ্যমকর্মীরাও। বগুড়ার সিনিয়র সাংবাদিক সৈয়দ ফজলে রাব্বি ডলার ও তার পিতা সৈয়দ আতিয়ার রহমানের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়েছে। এ ঘটনায় সাংবাদিক মহলে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
সাংবাদিকদের ওপর হামলাকে ‘গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধের অপচেষ্টা’ উল্লেখ করে দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা।
এদিকে, ঘটনার পর পুরো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে বলে জানালেও স্থানীয়দের অভিযোগ—ঘটনার সময় তাদের কার্যকর উপস্থিতির অভাবেই সহিংসতা ভয়াবহ রূপ নিয়েছে।
হত্যাকাণ্ড ও পরবর্তী সহিংসতার ঘটনায় এখনো দৃশ্যমান কোনো কঠোর ব্যবস্থা না নেওয়ায় জনমনে ক্ষোভ বাড়ছে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।