বগুড়ায় ‘অতিথি সেজে’ অবসরপ্রাপ্ত নারী ব্যাংক কর্মকর্তাকে হত্যা, রহস্যের নেপথ্যে | Daily Chandni Bazar বগুড়ায় ‘অতিথি সেজে’ অবসরপ্রাপ্ত নারী ব্যাংক কর্মকর্তাকে হত্যা, রহস্যের নেপথ্যে | Daily Chandni Bazar
logo
প্রকাশিত : ৭ এপ্রিল, ২০২৬ ২০:১৬
বগুড়ায় ‘অতিথি সেজে’ অবসরপ্রাপ্ত নারী ব্যাংক কর্মকর্তাকে হত্যা, রহস্যের নেপথ্যে
ধার না পেয়ে ক্ষোভে ‘মা-ছেলে’ পরিচয়ে বাড়িতে ঢুকে গলা কেটে হত্যার অভিযোগ
নিজস্ব প্রতিবেদক

বগুড়ায় ‘অতিথি সেজে’ অবসরপ্রাপ্ত নারী ব্যাংক কর্মকর্তাকে হত্যা, রহস্যের নেপথ্যে

বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলায় টাকা ধার দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় ‘অতিথি সেজে’ বাড়িতে ঢুকে অবসরপ্রাপ্ত এক নারী ব্যাংক কর্মকর্তাকে গলা কেটে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার প্রাথমিক স্বীকারোক্তিও মিলেছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

নিহত শাহনাজ বেগম (৭১) রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক-এর (রাকাব) অবসরপ্রাপ্ত জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ছিলেন। গত শনিবার (৫ এপ্রিল) সন্ধ্যায় শিবগঞ্জ উপজেলার ময়দানহাট্টা ইউনিয়নের মহব্বত নন্দীপুর গ্রামে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে।

এ ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া নারীর নাম সুলতানা বেগম (৪৭)। তিনি একই উপজেলার কুপা গ্রামের বাসিন্দা। রোববার (৬ এপ্রিল) রাতে নিজ বাড়ি থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহীনুজ্জামান জানান, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সুলতানাকে আটক করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্বীকার করেন, ঋণের চাপে পড়ে তিনি ও তাঁর ছেলে শাহনাজ বেগমের কাছে টাকা ধার চাইতে যান। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ক্ষুব্ধ হয়ে তাঁরা দুজনে মিলে এ হত্যাকাণ্ড ঘটান।

পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সময় বাড়িতে শাহনাজ বেগমের সঙ্গে তাঁর পুত্রবধূ সৈয়দা জিন্নাত আকতার ও ছোট মেয়ে ছিলেন। একমাত্র ছেলে মাহমুদুল হাসান তখন পাশের দাড়িদহ বাজারে নিজের ইলেকট্রনিকসের দোকানে ছিলেন।

সন্ধ্যার দিকে ‘মা-ছেলে’ পরিচয়ে দুজন ওই বাড়িতে প্রবেশ করেন এবং তাঁদের আপ্যায়নও করা হয়। একপর্যায়ে পুত্রবধূ নামাজ পড়তে নিজ কক্ষে গেলে বাইরে থেকে দরজা আটকে দেওয়া হয়। নামাজ শেষে তিনি শাশুড়ির চিৎকার শুনে বের হতে গেলে দরজা বন্ধ দেখতে পান এবং চিৎকার শুরু করেন। পরে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে ঘরে ঢুকে শাহনাজ বেগমকে রক্তাক্ত অবস্থায় খাটে পড়ে থাকতে দেখেন। তাঁর মুখ ওড়না দিয়ে বাঁধা ছিল।

গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ নেওয়া হলে চিকিৎসক রাত সাড়ে ৮টার দিকে তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় নিহতের ছেলে মাহমুদুল হাসান বাদী হয়ে শিবগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। গ্রেপ্তার সুলতানা বেগমকে মামলায় দেখিয়ে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি রেকর্ডের জন্য আদালতে পাঠানো হয়েছে।

বগুড়ার আদালত পরিদর্শক শহিদুল ইসলাম জানান, আসামির জবানবন্দি রেকর্ডের প্রস্তুতি চলছে।

মামলার এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, সুলতানা বেগম আগে শাহনাজ বেগমের মেয়ের বাসায় গৃহকর্মীর কাজ করতেন। সেই পরিচয় কাজে লাগিয়েই তিনি এক তরুণকে ‘ছেলে’ পরিচয়ে সঙ্গে নিয়ে বাড়িতে প্রবেশ করেন।