ব্রিটিশ আমলের রাস্তায় চলাচল বন্ধ; শেরপুরে কয়েক শতাধিক পরিবার দুর্ভোগে | Daily Chandni Bazar ব্রিটিশ আমলের রাস্তায় চলাচল বন্ধ; শেরপুরে কয়েক শতাধিক পরিবার দুর্ভোগে | Daily Chandni Bazar
logo
প্রকাশিত : ১৩ এপ্রিল, ২০২৬ ০১:২৪
ব্রিটিশ আমলের রাস্তায় চলাচল বন্ধ; শেরপুরে কয়েক শতাধিক পরিবার দুর্ভোগে
নিজস্ব প্রতিবেদক

ব্রিটিশ আমলের রাস্তায় চলাচল বন্ধ; শেরপুরে কয়েক শতাধিক পরিবার দুর্ভোগে

বগুড়ার শেরপুর উপজেলা-এর সীমাবাড়ী ইউনিয়নে ব্রিটিশ আমলে নির্মিত একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক দখল হয়ে যাওয়ায় এলাকার কয়েক শতাধিক পরিবার চরম দুর্ভোগে পড়েছে। বিকল্প পথ না থাকায় তাদের চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, কালিয়াকৈর চকগোলামের মূল সড়ক থেকে লাঙ্গলমোড়া পর্যন্ত সড়কটি ব্রিটিশ শাসনামলে নির্মিত। মৌজা কালিয়াকৈর চকগোলামের সাবেক দাগ নম্বর ১১০ ও বর্তমান দাগ নম্বর ৪৪০–এর এই রাস্তা দীর্ঘদিন ধরে এলাকাবাসীর একমাত্র যাতায়াতের পথ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল।
তবে সম্প্রতি সড়কটির পশ্চিমাংশে একটি পুকুর খনন করে এক ব্যক্তি দখল করে নেন। অপরদিকে পশ্চিম অংশ থেকে বেটখর-কালিয়াকৈর মূল সড়ক পর্যন্ত প্রায় ১৮০ ফুট জায়গা যৌথ মালিকানাধীন হলেও সেখানে আরেক ব্যক্তি চলাচল বন্ধ করে দেন। এতে পুরো সড়কটি অচল হয়ে পড়েছে।
এলাকাবাসী জানান, বিকল্প কোনো রাস্তা না থাকায় তারা মারাত্মক ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। রোগী নিয়ে হাসপাতালে যাওয়া, শিশুদের স্কুলে পাঠানো কিংবা কৃষিকাজে মাঠে যাওয়াও এখন কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে।
এ অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী মো. রহমতুল বারী নিজের তিন শতাংশ জমি সীমাবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের নামে রেজিস্ট্রি করে দেন, যাতে নতুন রাস্তা নির্মাণ করা যায়। কিন্তু পুরোনো রাস্তা দখলমুক্ত না হওয়া এবং নতুন রাস্তার সঙ্গে মূল সড়কের সংযোগ না থাকায় উদ্যোগটি কার্যকর হচ্ছে না।
গ্রামের বাসিন্দা গোলাম মোস্তফা ও আখতার হোসেন বলেন, “ব্রিটিশ আমলের রাস্তাটি দখল হয়ে গেছে। মানুষ হেঁটেও চলাচল করতে পারছে না। দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।”
রাস্তাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। হামলার শিকার কে. এম. জহুরুল হক (৬২) গত ৭ এপ্রিল শেরপুর থানা-এ একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। জিডিতে তিনি অভিযোগ করেন, প্রতিবেশী ও ভাগিস্বত্বভোগীরা তাঁকে রাস্তা ব্যবহার করতে বাধা দিচ্ছেন এবং মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছেন।
ভুক্তভোগী জহুরুল হক বলেন, “উপজেলা প্রশাসন ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে অভিযোগ করেছি। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশা করছি।”
অভিযুক্ত নবীর উদ্দিন বলেন, “রাস্তাটি নিয়ে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। আদালতের রায়ই আমরা মেনে নেব।”
সীমাবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নূর মোহাম্মদ সরকার জানান, উভয় পক্ষকে নিয়ে একাধিকবার বৈঠক করেও সমাধান মেলেনি। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে সমাধানের চেষ্টা চলছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইদুজ্জামান হিমু বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। স্থানীয়ভাবে সমাধান সম্ভব না হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।