বগুড়ার সরকারি আজিজুল হক কলেজের সমাজকর্ম বিভাগের উদ্যোগে গত ২৩ এপ্রিল অনার্স প্রথম বর্ষ (সেশন: ২০২৪-২০২৫) শিক্ষার্থীদের ক্লাস ক্লোজিং ডে বর্ণাঢ্য (সামপনী) আয়োজনে উদযাপিত হয়েছে। এদিন শিক্ষার্থীরা নানা রঙের সাজে প্রাণবন্ত উপস্থিতি দিয়ে অনুষ্ঠানকে করে তোলে আরও উৎসবমুখর।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মাহফুজুল ইসলাম। তিনি তাঁর বক্তব্যে সমাজকর্মের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, সমাজকর্ম এমন একটি বিষয় যা সমাজের কল্যাণে কাজ করে, সামাজিক সমস্যা চিহ্নিত করে এবং তার সমাধানের পথ বের করে। তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, “তোমরা মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করবে এবং ভবিষ্যতে সমাজের কল্যাণে নিজেদের নিয়োজিত করবে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।”
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কলেজের উপাধ্যক্ষ প্রফেসর মো. আব্দুল ওয়াহেদ সরকার। তিনি বলেন, সমাজকর্ম এমন একটি জীবনমুখী বিষয় যা সমাজের অসঙ্গতিগুলো বিশ্লেষণ করে এবং মানবাধিকার, নীতি-নৈতিকতা ও সামাজিক সম্পর্ক বিষয়ে সুস্পষ্ট ধারণা প্রদান করে। তিনি শিক্ষার্থীদের ভালো নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার আহ্বান জানান।
কলেজ শিক্ষক পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক টিপু সুলতান শিক্ষার্থীদের এ আয়োজনের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, সমাজকর্মের শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে সমাজ গঠন ও সংস্কারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত অর্থনীতি বিভাগের প্রফেসর মো. আব্দুল মতিন বলেন, সমাজকর্ম ভালোভাবে অধ্যয়ন করলে সমাজের সূক্ষ্ম দিকগুলো অনুধাবন করা যায় এবং ব্যক্তিগত ও সামাজিক উন্নয়নের পথ সুগম হয়।
ইংরেজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর মো. আকিদুল ইসলাম তাঁর বক্তব্যে বলেন, সমাজকর্মের শিক্ষার্থীরা সমাজের ‘চেঞ্জ এজেন্ট’ হিসেবে কাজ করতে পারে। তিনি শিক্ষার্থীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যত কামনা করেন। এছাড়া ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. মতিউর রহমান সাজুও শিক্ষার্থীদের সফলতা কামনা করেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সমাজকর্ম বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান মো. শহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, বিশ্বায়নের এই যুগে শিক্ষার্থীদের নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে এবং অপসংস্কৃতি ও প্রযুক্তিনির্ভর আসক্তি থেকে সচেতন থাকতে হবে। তিনি সামাজিক সম্পর্ক, নৈতিকতা ও মূল্যবোধকে জীবনে ধারণ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি আরও বলেন, “বর্তমানে মানুষ সামাজিক সম্পর্কের জায়গায় প্রযুক্তির ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে, যা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এ থেকে বের হয়ে সমাজের কল্যাণে নিজেদের সম্পৃক্ত করতে হবে।”উল্লেখ্য, আয়োজনটি শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে প্রাণবন্ত ও সফলভাবে সম্পন্ন হয়।