রাজধানীর পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির স্কুলছাত্রী রামিসা আক্তারকে (৭) ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার সোহেল রানা আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে। জবানবন্দিতে সে জানিয়েছে, ঘটনার আগে ইয়াবা সেবন করেছিল।
বুধবার (২০ মে) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদ ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় সোহেল রানার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করেন। পরে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
জবানবন্দিতে সোহেল রানা জানায়, গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রামিসা ঘর থেকে বের হলে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার শিশুটিকে রুমে নিয়ে যায়। পরে সোহেল তাকে বাথরুমে নিয়ে ধর্ষণ করে। শিশুটি জ্ঞান হারিয়ে ফেললে তার মা দরজায় কড়া নাড়তে থাকেন। এ সময় সোহেল ধারালো ছুরি দিয়ে শিশুটির গলা কেটে হত্যা করে।
পরে মরদেহ গুম করার উদ্দেশ্যে মাথা কেটে আলাদা করে, দুই হাত আংশিক বিচ্ছিন্ন করে এবং যৌনাঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করে খাটের নিচে লুকিয়ে রাখে বলে সে স্বীকার করে। ঘটনার সময় তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার একই রুমে ছিলেন। পরে জানালার গ্রিল কেটে সোহেল পালিয়ে যায়।
পলাতক আরেক আসামি
এ ঘটনায় শিশুটির বাবা আবদুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় সোহেল রানা, তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ও অজ্ঞাত আরেকজনকে আসামি করা হয়। পুলিশ স্বপ্না আক্তারকে ঘটনার পরপরই গ্রেপ্তার করে। সোহেলকে পরে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার সামনে থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
আদালত সূত্র জানায়, সোহেল ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে স্বীকারোক্তি দিতে সম্মত হয়েছে। তবে অজ্ঞাত আসামি এখনও পলাতক রয়েছে।
রামিসা পপুলার মডেল হাইস্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। ময়নাতদন্ত শেষে শিশুটির মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।