চেয়ারম্যান বিতর্কে চাপে ইসলামী ব্যাংক, বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে ১০ হাজার কোটি টাকার আবেদন | Daily Chandni Bazar চেয়ারম্যান বিতর্কে চাপে ইসলামী ব্যাংক, বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে ১০ হাজার কোটি টাকার আবেদন | Daily Chandni Bazar
logo
প্রকাশিত : ১০ জুন, ২০২৬ ০০:৩৭
চেয়ারম্যান বিতর্কে চাপে ইসলামী ব্যাংক, বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে ১০ হাজার কোটি টাকার আবেদন
নিজস্ব প্রতিবেদক

চেয়ারম্যান বিতর্কে চাপে ইসলামী ব্যাংক, বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে ১০ হাজার কোটি টাকার আবেদন

ইসলামী ব্যাংকের লগো। ছবি- সংগৃহীত

দেশের অন্যতম বৃহৎ বেসরকারি ব্যাংক ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি আবারও তারল্য সংকটে পড়েছে। চেয়ারম্যান নিয়োগকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিতর্ক এবং গ্রাহকদের চলমান আন্দোলনের মধ্যে গত এক সপ্তাহে ব্যাংকটি থেকে পাঁচ হাজার কোটি টাকার বেশি আমানত উত্তোলন করা হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে গ্রাহকদের চাহিদা পূরণে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে ১০ হাজার কোটি টাকা সহায়তা চেয়েছে ব্যাংকটি।

মঙ্গলবার বিষয়টি নিশ্চিত করে বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী মুখপাত্র মোহাম্মদ শাহরিয়ার সিদ্দিকী বলেন, “ইসলামী ব্যাংক ১০ হাজার কোটি টাকা ধার চেয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।”

ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, গত ৩১ মে থেকে ৭ জুন পর্যন্ত ইসলামী ব্যাংকের আমানত কমেছে ৪ হাজার ২০৪ কোটি টাকা। পরবর্তী দুই দিনেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

ঈদুল আজহার আগে শেষ কর্মদিবসে ব্যাংকটির তৎকালীন চেয়ারম্যান এম জুবায়দুর রহমান পদত্যাগ করেন। একই রাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর মো. খুরশীদ আলমকে নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এর পর থেকেই নতুন চেয়ারম্যানের অপসারণ দাবিতে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে আন্দোলন শুরু হয়।

রাজধানীর দিলকুশায় ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ‘সচেতন গ্রাহক ফোরাম’-এর ব্যানারে কয়েক দিন ধরে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন একদল গ্রাহক। আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। সংশ্লিষ্টদের মতে, চলমান আন্দোলনের কারণে অনেক আমানতকারী তাদের অর্থের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে ব্যাংক থেকে টাকা তুলে নিচ্ছেন।

মঙ্গলবারও টানা নবম দিনের মতো আন্দোলন অব্যাহত থাকে। কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া গ্রাহকদের অভিযোগ, আর্থিক অনিয়ম ও বিতর্কের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে অভিযুক্ত একজন ব্যক্তিকে চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ দেওয়ায় তারা আমানতের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত।

আন্দোলনকারীদের দাবির মধ্যে রয়েছে— সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওমর ফারুক খানকে পুনর্বহাল, লুটপাটের সঙ্গে জড়িত কাউকে পরিচালনা পর্ষদে না রাখা, ব্যাংক রেজোল্যুশন অ্যাক্টের ১৮(ক) ধারা বাতিল এবং ব্যাংক খাতে অনিয়ম-দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের বিচার নিশ্চিত করা।

এদিকে আলোচনায় এসেছে ব্যাংক খাতের বহুল আলোচিত এস আলম গ্রুপের প্রসঙ্গও। অভিযোগ রয়েছে, ২০১৭ সালে বিভিন্ন কৌশলে শেয়ার অধিগ্রহণের মাধ্যমে এবং রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় গ্রুপটি ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করে। ২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ব্যাংকটি এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণমুক্ত হয়। এরপর থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিনিধিরা ব্যাংকটির কার্যক্রম তদারকি করছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, বর্তমানে ইসলামী ব্যাংকের প্রায় ৫০ শতাংশ ঋণ খেলাপি অবস্থায় রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এস আলম গ্রুপ সংশ্লিষ্ট ঋণ কেলেঙ্কারির প্রভাবেই একসময়ের লাভজনক ও শক্তিশালী ব্যাংকটি গভীর আর্থিক সংকটে পড়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে এখন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সহায়তার ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে প্রতিষ্ঠানটিকে।