নিজের নামে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নামকরণে আপত্তি জানিয়ে নিজেই ডিও দিয়েছিলেন প্রতিমন্ত্রী | Daily Chandni Bazar নিজের নামে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নামকরণে আপত্তি জানিয়ে নিজেই ডিও দিয়েছিলেন প্রতিমন্ত্রী | Daily Chandni Bazar
logo
প্রকাশিত : ১৯ জুন, ২০২৬ ১৯:৩৬
নিজের নামে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নামকরণে আপত্তি জানিয়ে নিজেই ডিও দিয়েছিলেন প্রতিমন্ত্রী
বগুড়ায় থামছে না স্বার্থান্বেষী মহলের নাম ব্যবহারের অপচেষ্টা
ষ্টাফ রিপোর্টার

নিজের নামে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নামকরণে আপত্তি জানিয়ে নিজেই ডিও দিয়েছিলেন প্রতিমন্ত্রী

শিবগঞ্জ এবং মোকামতলার চারটি ইউনিয়নের নামকরণের বিতর্কের মাঝেই সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রীর নামে শিবগঞ্জে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তন প্রস্তাবের ঘটনা। অথচ বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ–মোকামতলা) আসনের সংসদ সদস্য এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের নামে কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নামকরণের উদ্যোগ না নিতে শিক্ষা সচিবের প্রতি তিনি মাসের শুরুতেই নির্দেশনা দিয়েছেন। এ বিষয়ে গত ১ জুন ২০২৬ইং তারিখে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিবের কাছে একটি আধা-সরকারি (ডিও) পত্রও পাঠিয়েছেন তিনি। পত্রে প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে বিভিন্ন ব্যক্তি নিজেদের উদ্যোগে ও স্বার্থসিদ্ধির উদ্দেশ্যে তাঁর নামে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নামকরণের প্রস্তাব পাঠাচ্ছেন, যা তাঁর কাছে অনভিপ্রেত ও অনাকাঙ্ক্ষিত। তিনি মনে করেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য, পরিচিতি ও স্বাতন্ত্র্য অক্ষুণ্ণ রাখাই অধিকতর সমীচীন। তিনি আরও জানান, শিবগঞ্জ–মোকামতলা এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ব্যক্তিগত উদ্যোগে জমি দান, নিজ অর্থে জমি ক্রয়, প্রতিষ্ঠাকালীন ব্যয় বহন ও সার্বিক পৃষ্ঠপোষকতার মাধ্যমে শিক্ষা বিস্তারে কাজ করে আসছেন। তাঁর প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় ১৯৯৭ সাল থেকে বিভিন্ন সময়ে একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠিত বা উন্নয়ন করা হয়েছে। এসবের মধ্যে রয়েছে— মীরবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (১৯৯৭), বেতগাড়ি মীরবাড়ি সরকারি এতিমখানা (২০০৪), বেতগাড়ি মীর শাহে আলম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় (২০০১), বেতগাড়ি মীর শাহে আলম কারিগরি স্কুল অ্যান্ড বিএম মহাবিদ্যালয় (২০০৪), তিয়াইল মীর লাবনী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (২০১২), বেতগাড়ি মীর শাহে আলম মৎস্য ও কৃষি প্রযুক্তি ইনস্টিটিউট (২০১৩), বেতগাড়ি মীর মাহাতাব–শাহে আলম মহিলা দাখিল মাদ্রাসা (২০২৩), মোকামতলা মীর শাহে আলম–ছাত্তার তালুকদার মহাবিদ্যালয় (২০২৩), কিচক মীর শাহে আলম কলেজ (২০২৩) এবং বেতগাড়ি মীর শাহে আলম ভেটেরিনারি ইনস্টিটিউট (২০২৫)। পত্রের শেষাংশে প্রতিমন্ত্রী স্পষ্টভাবে অনুরোধ করেন, উল্লিখিত প্রতিষ্ঠানগুলোর বাইরে তাঁর বা তাঁর পরিবারের সদস্যদের নামে কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নামকরণের প্রস্তাব যেন গ্রহণ বা অনুমোদন না করা হয়। একই সঙ্গে ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পূর্বের নাম ও পরিচিতি সংরক্ষণের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন। চিঠির অনুলিপি মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, রাজশাহী; বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড, ঢাকা এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার বরাবর প্রেরণ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। সার্বিক প্রসঙ্গে মুঠোফোনে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের সাথে কথা বললে তিনি জানান, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় সরকারের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি দপ্তর। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার যেভাবে প্রতিটি সেক্টরকে ভঙ্গুর করে রেখে গেছেন সেই অবস্থার ইতিবাচক পরিবর্তন আনয়নে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তিনি দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। দীর্ঘ ১৭ বছর বগুড়ার যে উন্নয়ন বঞ্চনা আছে তা দূর করে দেশের অন্যান্য জেলার সাথে সমতা সাধনে তিনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সার্বিক দিক-নির্দেশনায় কাজ শুরু করেছেন। কর্মব্যস্ততায় তিনি যখন ডুবে আছেন তখন তাকে বিতর্কিত করতে মেতে উঠেছেন বিভিন্ন স্বার্থান্বেষী মহল যারা প্রতিটি সরকারের সময়ই সক্রিয় থাকেন। নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্য তার নাম ব্যবহারের মাধ্যমে অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে যে বিষয়ে তিনি সকলকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। প্রতিমন্ত্রী বলেন, বগুড়া কখনোই গোপালগঞ্জ হবেনা। সারাদেশেই সুষম উন্নয়নে বিশ্বাসী তারা। দীর্ঘ বছর বগুড়ার উন্নয়ন বঞ্চনার তালিকা এতই লম্বা যে এখন পূর্বের কাঙ্খিত উন্নয়নগুলো সাধন করতে গিয়েই হিমশিম খেতে হচ্ছে সমতায় ফেরা আরো অনেক দেরি। শাহে আলম বলেন, তিনি শিবগঞ্জের তৃণমূলের সন্তান। এই এলাকার কৃষক, শ্রমিক থেকে শুরু করে রিক্সাওয়ালা, মুদি দোকানদার, শিক্ষক কিংবা ব্যবসায়ী তিনি সকলের আপনজন। অনেকে ভালোবেসে অথবা তাকে খুশি করতে অবগত না করেই নানা কর্মকাণ্ড করে ফেলছেন যাতে পরবর্তীতে তিনি বিতর্কিত হচ্ছেন। এ বিষয়ে তিনি বিনয়ের সাথে সকলের প্রতি সতর্ক থাকার অনুরোধ জানান।