হক্বের দাওয়াত সিদ্দীক্বিয়া দরবার শরীফে পবিত্র আশুরা মিনাল মহররম যথাযোগ্য ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, ইবাদত-বন্দেগী, জিকির-আজকার, মিলাদ-কিয়াম ও দোয়া-মুনাজাতের মধ্য দিয়ে পালিত হয়েছে।
এ উপলক্ষে দরবার শরীফে পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত, হামদ-নাত, জিকির-আজকার, মিলাদ শরীফ, কিয়াম এবং ইসলামী আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে দেশ, জাতি ও সমগ্র মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি, ঈমান-আমলের উন্নতি এবং মানবজাতির কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করা হয়।
দরবারের সম্মানিত মুর্শিদ কিবলা মুহাম্মাদ আলহাজ্ব MMD. ইমাম আশরাফ আলীমুল্লহ্ সিদ্দীকী উপস্থিত মুসল্লিদের উদ্দেশে পবিত্র মুহররম মাস ও আশুরার ফজিলত, মর্যাদা, ঐতিহাসিক তাৎপর্য এবং এর সাথে সম্পর্কিত ইবাদত-বন্দেগীর গুরুত্ব বিস্তারিত আলোচনা করেন।
তাঁর আলোচনায় তিনি বলেন, পবিত্র মুহাররম ইসলামি হিজরি সনের প্রথম মাস এবং আল্লাহ তাআলার বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ চারটি সম্মানিত মাসের অন্যতম। হাদিস শরীফে এ মাসকে ‘শাহরুল্লাহ’ বা ‘আল্লাহর মাস’ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। রমজানের পর সর্বোত্তম নফল রোজা হলো মুহাররম মাসের রোজা।
মুর্শিদ কিবলা আরও বলেন, পবিত্র হাদীছ শরীফে ইরশাদ মুবারক হয়েছে- “তোমরা পবিত্র আশুরা মিনাল মুহররম শরীফ উনাকে সম্মান করো।” যে ব্যক্তি মুহররম মাস তথা আশুরার দিনকে সম্মান করবে, মহান আল্লাহ পাক তাকে জান্নাত দ্বারা সম্মানিত করবেন এবং জাহান্নাম থেকে মুক্তি দান করবেন।
আশুরা (মুহররমের ১০ তারিখ) ইসলামী ইতিহাসে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ দিন। এ দিনে হযরত মুসা আলাইহিস সালাম ও বনী ইসরাইলকে ফেরাউনের জুলুম ও অত্যাচার থেকে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল। আল্লাহ তাআলা লোহিত সাগর বিভক্ত করে হযরত মুসা আলাইহিস সালাম ও তাঁর সাথীদের নিরাপদে পার করিয়েছিলেন এবং ফেরাউন ও তার বাহিনীকে ডুবিয়ে দিয়েছিলেন। হযরত মুসা আলাইহিস সালাম এ দিন আল্লাহর শুকরিয়া আদায়ে রোজা রেখেছিলেন।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ দিন রোজা রাখতেন এবং উম্মতকে রোজা রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি ইরশাদ করেছেন, “রমজানের পর সর্বোত্তম রোজা হলো আল্লাহর মাস মুহররমের রোজা।” আরেক হাদিসে তিনি বলেন, “আশুরার রোজার মাধ্যমে আমি আল্লাহর কাছে আশা করি যে, তিনি পূর্ববর্তী এক বছরের সগীরা গুনাহ ক্ষমা করে দিবেন।”
আশুরার রোজা সর্বোত্তমভাবে পালনের জন্য ৯ ও ১০ তারিখ অথবা ১০ ও ১১ তারিখে রোজা রাখার নির্দেশনা রয়েছে, যাতে ইহুদীদের সাথে সাদৃশ্য না হয়। এ দিনে বেশি বেশি জিকির-আজকার, কুরআন তিলাওয়াত, দান-সদকা, তওবা-ইস্তিগফার ও নফল ইবাদত করা উচিত।
মুর্শিদ কিবলা উল্লেখ করেন, আশুরার প্রকৃত শিক্ষা হলো আল্লাহভীতি, তাকওয়া, তওবা, আত্মশুদ্ধি, নফসের পরিশুদ্ধি এবং সুন্নাহ অনুসরণের মাধ্যমে জীবন পরিচালনা করা। পবিত্র আশুরাকে কেন্দ্র করে সমাজে প্রচলিত কুসংস্কার, বিদআত ও শরীয়তবিরোধী আচার-অনুষ্ঠান থেকে বিরত থাকা প্রত্যেক মুসলমানের কর্তব্য।
অনুষ্ঠানে দরবার শরীফের পীর-মাশায়েখ, আলেম-ওলামা, মুরিদান, আশেকান ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিপুল সংখ্যক ধর্মপ্রাণ মুসল্লি অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠান শেষে মুসলিম উম্মাহর ঐক্য, দেশের শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ মোনাজাতের মাধ্যমে কর্মসূচির সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
এ ধরনের ধর্মীয় অনুষ্ঠান মুসলিম সমাজে আধ্যাত্মিক জাগরণ সৃষ্টি করে এবং সুন্নাহ অনুসরণের প্রেরণা যোগায়। হক্বের দাওয়াত সিদ্দীক্বিয়া দরবার শরীফের এ আয়োজন স্থানীয় ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।