প্রকাশিত : ২৮ জুন, ২০২৬ ১২:৩৮
সলঙ্গায় ডাকাত চক্রের সদস্য গ্রেপ্তার
সলঙ্গা, সিরাজগঞ্জ সংবাদদাতা:
দীর্ঘদিনের গোয়েন্দা নজরদারি ও পরিকল্পিত অভিযানের পর হাটিকুমরুল এলাকায় আন্তঃজেলা ডাকাত চক্রের এক সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।গতকাল শনিবার বিকেলে সলঙ্গা থানা হলরুমে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান। সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (রায়গঞ্জ সার্কেল) সাইফুল ইসলাম জানান, ডাকাতদের বহনকারী ট্রাক আটকে দেওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে।এতে এক পুলিশ কনস্টেবল গুরুতর আহত হন।
পুলিশ জানায়,জেলার পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম, বিপিএম (বার) এর নির্দেশনা ও সার্বিক তত্ত্বাবধানে গত কয়েকদিন ধরে আন্তঃজেলা ডাকাত চক্রটির গতিবিধি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছিল।সিরাজগঞ্জসহ আশপাশের বিভিন্ন জেলায় সাম্প্রতিক ডাকাতি ও চুরির ঘটনাগুলোর সূত্র ধরে অভিযানের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়।
এর আগে গত ২৪ জুন ভোর রাতে ডাকাত চক্রটি সলঙ্গা থানা এলাকায় প্রবেশ করলে সলঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আছলাম আলীর নেতৃত্বে একটি দল তাদের অনুসরণ করে। তবে ট্রাকটি একটি লিংক রোডে প্রবেশ করায় সেদিন তাদের আটক করা সম্ভব হয়নি।
পরবর্তীতে গত রাতে চক্রটির অবস্থান নিশ্চিত হলে পুলিশ সুপারের নির্দেশে ওসির নেতৃত্বে একাধিক আভিযানিক দল হাটিকুমরুল ও আশপাশের কৌশলগত স্থানে অবস্থান নেয়। পুলিশের যানবাহনের পাশাপাশি কয়েকটি সিভিল ট্রাকও প্রস্তুত রাখা হয়।
রাতের এক পর্যায়ে ডাকাত দলের ট্রাকটি হাটিকুমরুলের ঢাকামুখী আন্ডারপাস এলাকায় পৌঁছালে পুলিশ থামার সংকেত দেয়।কিন্তু সংকেত অমান্য করে পালানোর চেষ্টা করলে ধোপাকান্দি ব্রিজের ওপর সামনে ও পেছনে সিভিল ট্রাক দিয়ে ব্যারিকেড সৃষ্টি করা হয়।এ সময় ডাকাতদের ট্রাকটি ইচ্ছাকৃতভাবে পেছনে থাকা ওসির পিকআপকে সজোরে ধাক্কা দিলে পুলিশ কনস্টেবল রুহুল ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন এবং পুলিশের পিকআপের সামনের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
এক পর্যায়ে ট্রাকটি আটকে গেলে ডাকাত দলের সদস্যরা দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করে। তবে একজনকে ঘটনাস্থলেই আটক করা হয়।এ সময় ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি পিকআপ,গ্রিল কাটার,চাপাতি,রশি,ত্রিপল,লোহার রড, লাঠি ও ইটের টুকরা উদ্ধার করা হয়।
আহত কনস্টেবল রুহুলকে দ্রুত সিরাজগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।তিনি সার্জারি বিভাগে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং বর্তমানে তার অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানিয়েছে পুলিশ।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তি নিজের নাম সুরুজ (বাড়ি রংপুর) বলে পরিচয় দিয়ে আন্তঃজেলা ডাকাত চক্রের সঙ্গে সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন।তিনি চক্রের অন্যান্য সদস্যদের সম্পর্কেও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন।প্রাপ্ত তথ্য যাচাই-বাছাই করে পলাতক সদস্যদের গ্রেপ্তারে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এ ঘটনায় ৮ জন এজাহারনামীয় আসামিসহ অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।