বগুড়া শহরে একটি পথকুকুরকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করার ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে মামলা দায়ের করা হয়েছে। একই রাতে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত মো. স্বপন (৪৫) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে। আহত কুকুরটি বর্তমানে প্রাণিসম্পদ বিভাগের নিবিড় পরিচর্যায় চিকিৎসাধীন রয়েছে।
পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সোমবার দুপুরে বগুড়া মহানগরের কানুছগাড়ি ইনডিপেনডেন্ট হাসপাতাল এলাকায় আসবাব ব্যবসায়ী মো. স্বপন একটি সাদা-কালো রঙের পথকুকুরকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত করেন বলে অভিযোগ ওঠে। পরে রক্তাক্ত অবস্থায় প্রাণীটিকে একটি নর্দমায় ফেলে রাখা হয়।
খবর পেয়ে বাংলাদেশ অ্যানিমেল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মো. ইমরান হোসেন স্থানীয় তরুণ এস এম সাদিকুল ইসলাম ও রাফিদ ইয়াসারের সহযোগিতায় কুকুরটিকে উদ্ধার করেন। পরে শহরের একটি পেটস কনসালটেন্সি সেন্টারে নেওয়া হলে বগুড়া সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. রায়হান, ভেটেরিনারি সার্জন ডা. লুৎফর রহমান এবং জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. কাজী আশরাফুল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত চিকিৎসক দল জরুরি অস্ত্রোপচারসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা প্রদান করেন।
ঘটনার ভিডিও ও ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসে। প্রাণীর প্রতি এমন নিষ্ঠুরতার ঘটনায় তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বগুড়ার পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদকে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদ জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের পর সোমবার রাত ৮টার দিকে বাংলাদেশ অ্যানিমেল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে বগুড়া সদর থানায় মামলা রেকর্ড করা হয়। এরপর অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে ডিবি পুলিশ অভিযান চালায়। দিবাগত রাত ১২টার দিকে মো. স্বপনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তিনি ডিবি পুলিশের ওপর হামলার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তাঁর কাছ থেকে একটি বার্মিজ চাকুও জব্দ করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুর আচরণ কোনো তুচ্ছ অপরাধ নয়; এটি আইনের দৃষ্টিতে শাস্তিযোগ্য অপরাধ। ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব বিষয় গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে।
বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইব্রাহীম আলী জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
বগুড়া সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. রায়হান বলেন, উদ্ধার করার সময় কুকুরটি অচেতন অবস্থায় ছিল এবং তার মেরুদণ্ডের কাছে ধারালো অস্ত্রের গভীর আঘাতের কারণে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়। অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে ক্ষতস্থান সেলাই ও চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের ভেটেরিনারি টিমের তত্ত্বাবধানে প্রাণীটিকে নিবিড় পরিচর্যায় রাখা হয়েছে। তবে এখনো কুকুরটি শঙ্কামুক্ত নয়।