সিটি করপোরেশন হলেও বগুড়ায় নেই পর্যাপ্ত পাবলিক টয়লেট, দুর্ভোগে সাধারণ মানুষ | Daily Chandni Bazar সিটি করপোরেশন হলেও বগুড়ায় নেই পর্যাপ্ত পাবলিক টয়লেট, দুর্ভোগে সাধারণ মানুষ | Daily Chandni Bazar
logo
প্রকাশিত : ৭ জুলাই, ২০২৬ ০০:৪৯
সিটি করপোরেশন হলেও বগুড়ায় নেই পর্যাপ্ত পাবলিক টয়লেট, দুর্ভোগে সাধারণ মানুষ
‎আল-মামুন, বগুড়া

সিটি করপোরেশন হলেও বগুড়ায় নেই পর্যাপ্ত পাবলিক টয়লেট, দুর্ভোগে সাধারণ মানুষ

‎উত্তরাঞ্চলের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত বগুড়া শহরে প্রতিদিন চিকিৎসা, ব্যবসা, শিক্ষা, কেনাকাটা ও বিভিন্ন প্রয়োজনে হাজার হাজার মানুষের আগমন ঘটে। কিন্তু একটি মৌলিক নাগরিক সুবিধা—পাবলিক টয়লেটের সংকট—নগরবাসী ও আগত মানুষকে প্রতিনিয়ত চরম ভোগান্তিতে ফেলছে।

‎বগুড়া সিটি করপোরেশনের বাজার পরিদর্শক মোঃ আব্দুল হাই জানান, সিটি করপোরেশনের আওতাধীন মোট ৭টি পাবলিক টয়লেট রয়েছে। এর মধ্যে ২টি দীর্ঘদিন ধরে অচল অবস্থায় পড়ে আছে। ফলে কার্যকরভাবে ব্যবহারযোগ্য টয়লেটের সংখ্যা আরও কমে গেছে। তবে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, খুব শিগগিরই নগরীর গুরুত্বপূর্ণ স্থানে আরও ৫টি নতুন পাবলিক টয়লেট নির্মাণ করা হবে।

‎চালু থাকা টয়লেটগুলোর অনেকগুলোতেই পর্যাপ্ত পরিচ্ছন্নতা, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধার অভাব রয়েছে বলে অভিযোগ ব্যবহারকারীদের। বিশেষ করে নারী, শিশু, প্রবীণ ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন।

‎নগরীর সাতমাথা, বড়গোলা, রেলস্টেশন, বাস টার্মিনাল, নিউমার্কেট, সরকারি বিভিন্ন দপ্তর ও হাসপাতাল এলাকায় প্রতিদিন বিপুল মানুষের সমাগম হলেও প্রয়োজনের তুলনায় পাবলিক টয়লেটের সংখ্যা অত্যন্ত কম।

‎সাতমাথার এক পান ব্যবসায়ী বলেন, “আমরা সারাদিন এখানে ব্যবসা করি। সাতমাথার মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় কোনো কার্যকর পাবলিক টয়লেট নেই। আগে একটি ছিল, সেটিও দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ। তাই জরুরি প্রয়োজন হলে অনেকেই ড্রেনের পাশে বা পরিত্যক্ত টাউন ক্লাবের জায়গায় প্রয়োজন সারতে বাধ্য হন।

‎শহরের সেউজগাড়ী এলাকার বাসিন্দা আব্দুল কাদের বলেন, “জরুরি প্রয়োজনে টয়লেট খুঁজে পাওয়া যায় না। অনেক সময় দোকান বা রেস্টুরেন্টে গিয়ে অনুরোধ করতে হয়। একটি সিটি করপোরেশন এলাকায় এমন পরিস্থিতি সত্যিই দুঃখজনক।

‎কলেজছাত্রী সুমাইয়া আক্তার বলেন, “নারীদের জন্য নিরাপদ ও পরিচ্ছন্ন পাবলিক টয়লেট খুবই প্রয়োজন। বাইরে বের হলে সবচেয়ে বড় সমস্যাগুলোর একটি হলো টয়লেটের সংকট।

‎রিকশাচালক মো. জাহিদ হোসেন বলেন, “সারাদিন শহরে থাকি। প্রয়োজন হলে কোথায় যাব বুঝতে পারি না। অনেক সময় টাকা দিয়ে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের টয়লেট ব্যবহার করতে হয়।

‎ব্যবসায়ী শাহীন আলম বলেন, “শহরের জনসংখ্যা ও মানুষের চলাচল অনেক বেড়েছে। কিন্তু নাগরিক সেবা সেই অনুপাতে বাড়েনি। অচল টয়লেটগুলো দ্রুত চালু করার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নতুন পাবলিক টয়লেট নির্মাণ করা প্রয়োজন।

‎জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, পর্যাপ্ত ও স্বাস্থ্যসম্মত পাবলিক টয়লেট না থাকলে শুধু জনদুর্ভোগই বাড়ে না, পরিবেশ দূষণ এবং জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকিও বৃদ্ধি পায়। একটি আধুনিক শহরের জন্য পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ এবং নারী ও প্রতিবন্ধীবান্ধব পাবলিক টয়লেট নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।

‎এ বিষয়ে বগুড়া সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার বক্তব্য জানার জন্য যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে।

‎সচেতন নাগরিকদের প্রত্যাশা, অচল দুটি পাবলিক টয়লেট দ্রুত সংস্কার করে চালু করার পাশাপাশি নগরীর জনসমাগমপূর্ণ এলাকাগুলোতে নতুন পাবলিক টয়লেট নির্মাণের উদ্যোগ বাস্তবায়ন করবে বগুড়া সিটি করপোরেশন। এতে নগরবাসী ও বাইরে থেকে আসা মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি অনেকাংশে কমবে এবং নগর ব্যবস্থাপনাও আরও জনবান্ধব হয়ে উঠবে।