ধুনটে যমুনার ভাঙনে এক মাসে বিলীন ৫০০ বিঘা জমি, বাঁধ নিয়ে আতঙ্ক | Daily Chandni Bazar ধুনটে যমুনার ভাঙনে এক মাসে বিলীন ৫০০ বিঘা জমি, বাঁধ নিয়ে আতঙ্ক | Daily Chandni Bazar
logo
প্রকাশিত : ১৯ জুলাই, ২০২৬ ০১:০৫
ধুনটে যমুনার ভাঙনে এক মাসে বিলীন ৫০০ বিঘা জমি, বাঁধ নিয়ে আতঙ্ক
ধুনট, বগুড়া সংবাদদাতাঃ

ধুনটে যমুনার ভাঙনে এক মাসে বিলীন ৫০০ বিঘা জমি, বাঁধ নিয়ে আতঙ্ক

বগুড়ার ধুনট উপজেলার ভান্ডারবাড়ি ইউনিয়নে বর্ষা মৌসুম শুরুর পর গত এক মাসে যমুনা নদীর ভয়াবহ ভাঙনে একটি কৃষক পরিবারের বসতভিটাসহ প্রায় ৫০০ বিঘা আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভাঙনের তীব্রতাও বাড়ছে। ভাঙন বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের দিকে ধেয়ে আসায় যমুনাতীরের হাজারো মানুষ আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে যমুনা নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। শনিবার (১৮ জুলাই) সকাল ৯টা পর্যন্ত নদীর পানি ১৫ দশমিক ৫৭ মিটার সমতায় প্রবাহিত হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় পানি ৯ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার ৬৮ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি বাড়ার ধারা এখনও অব্যাহত রয়েছে।

সরেজমিনে ভাঙনকবলিত এলাকা ঘুরে দেখা যায়, প্রবল স্রোত ও ঢেউয়ের আঘাতে নদীতীরের মাটি ও বালুর স্তূপ ধসে নদীতে পড়ে যাচ্ছে। এতে একের পর এক ফসলি জমি ও বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। শহড়াবাড়ি ও বানিয়াজান গ্রামের মধ্যবর্তী প্রায় ২০০ মিটার এলাকায় ভাঙনের তীব্রতা সবচেয়ে বেশি। প্রতিদিনই নতুন নতুন জমি নদীগর্ভে চলে যাচ্ছে।

শহড়াবাড়ি গ্রামের কৃষক জুয়েল শেখ বলেন, যমুনার ভয়াবহ ভাঙনে তাঁর পৈতৃক কয়েক বিঘা আবাদি জমি এবং প্রায় শত বছরের পুরোনো বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘কয়েক দিনের মধ্যেই সব শেষ হয়ে গেছে। এভাবে ভাঙন চলতে থাকলে পুরো শহড়াবাড়ি গ্রামই মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাবে।’

স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে ভাঙন বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ পর্যন্ত পৌঁছে বড় ধরনের বিপর্যয় সৃষ্টি করতে পারে।

বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী আব্দুল মালেক বলেন, উজানের পাহাড়ি ঢলের কারণে নদীতে পানির চাপ বেড়েছে। এতে তীরবর্তী কিছু এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় জিওব্যাগ ও টিউব ডাম্পিংয়ের মাধ্যমে ভাঙন প্রতিরোধের কাজ চলমান রয়েছে।