ক্ষেতলালে পারিবারিক মারামারির মামলায় প্রতিবেশীদের জড়ানোর অভিযোগ | Daily Chandni Bazar ক্ষেতলালে পারিবারিক মারামারির মামলায় প্রতিবেশীদের জড়ানোর অভিযোগ | Daily Chandni Bazar
logo
প্রকাশিত : ১৯ জুলাই, ২০২৬ ০১:১৭
ক্ষেতলালে পারিবারিক মারামারির মামলায় প্রতিবেশীদের জড়ানোর অভিযোগ
ক্ষেতলাল, জয়পুরহাট সংবাদদাতা

ক্ষেতলালে পারিবারিক মারামারির মামলায় প্রতিবেশীদের জড়ানোর অভিযোগ

জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার বড়াইল ইউনিয়নের বেলগাড়ী গ্রামে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পরিবারের মধ্যে মারামারির ঘটনায় তিন প্রতিবেশীকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মামলায় জড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। তাঁদের মধ্যে রেজাউল ইসলাম (৬০) ও তাঁর ছেলে মামুন (১৯)কে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।

এ ঘটনায় এলাকায় ক্ষোভ ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে। তবে পুলিশ বলছে, এজাহারে নাম থাকায় দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্তে তাঁদের সম্পৃক্ততা না পাওয়া গেলে চূড়ান্ত প্রতিবেদনে তাঁদের নাম বাদ দেওয়া হবে।

স্থানীয় সূত্র ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বেলগাড়ী গ্রামের জুয়েল ফকিরসহ তাঁর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে একই গ্রামের হাফিজার ফকিরের ছেলে ফজলু ফকিরের পরিবারের জমিজমা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এর আগে ২০২৫ সালের ২৫ মার্চ ফজলু ফকির তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে হত্যার হুমকির অভিযোগে ক্ষেতলাল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন বলে জানা গেছে।

এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৫ জুলাই রাত সাড়ে ৮টার দিকে দুই পরিবারের সদস্যদের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে। এতে জুয়েল ফকিরসহ কয়েকজন আহত হন। এ ঘটনায় জুয়েল ফকির বাদী হয়ে সাতজনের নাম উল্লেখ করে ক্ষেতলাল থানায় মামলা করেন।

তবে মামলায় প্রতিবেশী রইচ উদ্দিনের ছেলে শাজাহান (৪৮), রেজাউল ইসলাম (৬০) ও রেজাউলের ছেলে মামুন (১৯)কে আসামি করায় তাঁদের পরিবারের পক্ষ থেকে আপত্তি জানানো হয়েছে। তাঁদের দাবি, ঘটনার সময় ওই তিনজন ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না এবং মারামারির সঙ্গে তাঁদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

ঘটনার সময় উপস্থিত ছিলেন বলে দাবি করা বাদী জুয়েল ফকিরের ভগ্নিপতি বছির উদ্দিন ও স্থানীয় বাসিন্দা বিপ্লব বলেন, মারামারির সময় শাজাহান, রেজাউল ও মামুন ঘটনাস্থলে ছিলেন না।

এদিকে আহত গোফ্ফার ঘটনার দিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাংবাদিকদের বলেন, ফজলু ফকিরের স্ত্রী সুফিয়া বেগম, ছেলে শুভ ও হাফিজার ফকির দেশীয় অস্ত্র দিয়ে তাঁদের মারধর করেছেন। তবে মামলায় প্রতিবেশী শাজাহান, রেজাউল ও মামুনকে আসামি করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

অন্যদিকে ফজলু ফকিরের মা ফরিদা বেগম অভিযোগ করেন, মারামারির পর তাঁদের বাড়িতেও হামলা ও ভাঙচুর করা হয়েছে। তাঁর দাবি, কয়েকজন ব্যক্তি বাড়ির গেট ও জানালা ভাঙচুর করে, বিদ্যুতের মিটার ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং ঘরে ঢুকে আসবাবপত্র তছনছ করেন। এ সময় গরু বিক্রির নগদ টাকা লুট করা হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন। এ ঘটনায় তাঁরা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশের সহায়তা চান বলে জানান।

এলাকাবাসীর দাবি, দুই পরিবারের অভ্যন্তরীণ জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের ঘটনায় প্রতিবেশীদের জড়ানো হয়েছে। পূর্বশত্রুতার জেরে তাঁদের মামলায় আসামি করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তাঁরা।

স্থানীয় ইউপি সদস্য সেকেন্দারসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বলেন, তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। নিরপরাধ কেউ যাতে হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়েও প্রশাসনের নজর দেওয়া প্রয়োজন।

ক্ষেতলাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোক্তাদুল আলম বলেন, বাদীপক্ষের লিখিত এজাহারের ভিত্তিতে মামলা করা হয়েছে। এজাহারভুক্ত আসামি হওয়ায় দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যাতে হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়ে পুলিশ সতর্ক রয়েছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে নিরপেক্ষভাবে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্তে প্রতিবেশীদের সম্পৃক্ততা না পাওয়া গেলে চূড়ান্ত প্রতিবেদনে তাঁদের নাম বাদ দেওয়া হবে।